প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ফেসবুকে আপত্তিকর মন্তব্য: এনসিপির অব্যাহতিপ্রাপ্ত নেতা তানভীর গ্রেপ্তার

প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ফেসবুকে আপত্তিকর মন্তব্য: এনসিপির অব্যাহতিপ্রাপ্ত নেতা তানভীর গ্রেপ্তার

অপরাধ ও বিচার ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আপত্তিকর বক্তব্য পোস্ট করার অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদ্য অব্যাহতিপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় নেতা গাজী সালাউদ্দিন তানভীরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে রাজধানী ঢাকার একটি এলাকা থেকে বগুড়া সদর থানা পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে তাকে হেফাজতে নেয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহিম আলী জানান, সাইবার সুরক্ষা আইনে দায়ের করা একটি মামলায় তানভীরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাকে ঢাকা থেকে বগুড়ায় নিয়ে আসা হচ্ছে। আইনগত পরবর্তী পদক্ষেপ এবং মামলার সার্বিক বিষয়ে শিগগিরই এক সংবাদ ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করা হবে।

এর আগে গত রোববার রাতে বগুড়া সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাফতুন আহমেদ খান রুবেল বাদী হয়ে বগুড়া সদর থানায় এই মামলাটি দায়ের করেন। মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, অভিযুক্ত গাজী সালাউদ্দিন তানভীর তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে দেওয়া একটি বার্তার মাধ্যমে দেশের প্রধানমন্ত্রীর মানহানি ঘটিয়েছেন। একই সঙ্গে উক্ত পোস্টের মাধ্যমে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানো এবং বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে সামাজিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনা উসকে দেওয়ার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে।

মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, বিষয়টি বিএনপির একাধিক স্থানীয় নেতাকর্মীর নজরে আসার পর তারা দলীয় জ্যেষ্ঠ নেতৃত্বের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। দলের শীর্ষ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত ও পরামর্শের প্রেক্ষিতেই পরবর্তীতে আইনি পদক্ষেপ হিসেবে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়।

ঘটনার পটভূমি বিশ্লেষণে জানা যায়, গত শুক্রবার সিলেট বিভাগের বিভিন্ন জেলায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত পদযাত্রায় বাধা প্রদান ও হামলার ঘটনা ঘটে। এই হামলার জন্য ক্ষমতাসীন দলটির অঙ্গ-সংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও যুবদলের স্থানীয় নেতাদের সরাসরি দায়ী করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি দীর্ঘ পোস্ট দেন তানভীর। ওই লেখাতেই তিনি প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বিতর্কিত ও আপত্তিকর মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ ওঠে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উক্ত পোস্টটি প্রকাশিত হওয়ার পরপরই রাজনৈতিক ও জনপরিসরে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। তৈরি হওয়া বিতর্কের মুখে তানভীর তার আইডি থেকে মূল পোস্টটি মুছে ফেললেও ততক্ষণে পোস্টের স্ক্রিনশট ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাটি রাজনৈতিক অঙ্গনে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করলে তানভীর পরবর্তীতে অপর একটি বার্তার মাধ্যমে নিজের অনাকাঙ্ক্ষিত মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

তবে বিষয়টি কেবল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। তার এই আচরণ দলীয় শৃঙ্খলা ও নীতিমালার পরিপন্থী আখ্যা দিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেয় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। ঘটনার দিনই এনসিপির দপ্তর সেল সদস্য সাদিয়া ফারজানা দিনা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সালাউদ্দিন তানভীরকে দলের সমস্ত দায়িত্ব ও পদ থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়। দল থেকে বহিষ্কারের পরদিনই তার বিরুদ্ধে থানায় এই মামলাটি নথিবদ্ধ করা হয়।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে রাষ্ট্রীয় ব্যক্তিত্বদের হেয় প্রতিপন্ন করা কিংবা বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টার বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনের প্রয়োগ সাম্প্রতিক সময়ে বৃদ্ধি পেয়েছে। এনসিপির এই নেতার গ্রেপ্তারের ঘটনা রাজনৈতিক শিষ্টাচার এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে ব্যক্তি ও দলীয় জবাবদিহিতার বিষয়টি পুনরায় সামনে নিয়ে এসেছে। বর্তমানে আসামি তানভীরকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বগুড়ায় স্থানান্তর করা হচ্ছে এবং পুলিশের পক্ষ থেকে তাকে আদালতে সোপর্দ করে রিমান্ডের আবেদন করা হতে পারে বলে থানা সূত্রে জানা গেছে।

আইন আদালত শীর্ষ সংবাদ