কক্সবাজারের মহেশখালীতে কারিগরি ত্রুটির মুখে পড়া ভাসমান এলএনজি টার্মিনালটি (এফএসআরইউ) প্রায় দুই সপ্তাহ পর আংশিকভাবে পুনরায় চালু

কক্সবাজারের মহেশখালীতে কারিগরি ত্রুটির মুখে পড়া ভাসমান এলএনজি টার্মিনালটি (এফএসআরইউ) প্রায় দুই সপ্তাহ পর আংশিকভাবে পুনরায় চালু

জাতীয় ডেস্ক
কক্সবাজারের মহেশখালীতে কারিগরি ত্রুটির শিকার ভাসমান এলএনজি টার্মিনালটি দীর্ঘ প্রায় দুই সপ্তাহ পর আংশিক চালু করা হয়েছে। টার্মিনালের দুটি বয়লারের একটি সক্রিয় হওয়ায় গতকাল রাত থেকে মহেশখালী থেকে জাতীয় গ্রিডে পুনরায় গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। এর ফলে চট্টগ্রাম অঞ্চলসহ দেশের বিদ্যুৎ ও শিল্পখাতে দেখা দেওয়া তীব্র গ্যাস সংকট কিছুটা হ্রাসের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) তরফ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানানো হয়েছে, এফএসআরইউতে ঘটে যাওয়া আকস্মিক দুর্ঘটনা পরবর্তী সময়ে দেশি ও বিদেশি প্রকৌশলীদের যৌথ প্রচেষ্টায় বয়লারটি মেরামত করা সম্ভব হয়। আপাতত একটি বয়লারের সাহায্যে বন্ধ থাকা ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফটি) প্রসেসিং ক্ষমতার বিপরীতে ২০০ থেকে ২৫০ এমএমসিএফটি গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে।
বর্তমানে আনোয়ারা মূল পাইপলাইনের মাধ্যমে চট্টগ্রাম অঞ্চলের গ্রাহক পর্যায়ে প্রতিদিন প্রায় ২০০ এমএমসিএফটি গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে। যা স্বাভাবিক সময়ের দৈনিক ২৬০ থেকে ২৭০ এমএমসিএফটি চাহিদার কাছাকাছি। সার্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে বাকি বয়লারটির মেরামত কাজও দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে।
উল্লেখ্য, গত ২১ জুলাই মহেশখালীর ওই এফএসআরইউ-তে প্রধান কারিগরি সমস্যা ধরা পড়ে। এর পর থেকেই বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, সার কারখানা, শিল্পকারখানা এবং গৃহস্থালি পর্যায়ে গ্যাস সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। কেজিডিসিএল অববাহিকায় জাতীয় গ্রিড থেকেও সরবরাহ কমিয়ে দেওয়ায় সংকটের মাত্রা চরম আকার ধারণ করেছিল।
জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশের সার্বিক শিল্প উৎপাদন ও সার্বিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থার স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে এলএনজি অবকাঠামোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা জোরদার করা জরুরি। মহেশখালীর এই টার্মিনালটি সম্পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরলে দেশের সার্বিক জ্বালানি খাতের ওপর থেকে বড় ধরনের চাপ কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অর্থ বাণিজ্য শীর্ষ সংবাদ