রাজনীতি ডেস্ক
জ্বালানি গ্যাসের দাম বাড়ানোর যেকোনো ধরনের উদ্যোগের তীব্র বিরোধিতা করে সরকারের পতনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় হুইপ নাহিদ ইসলাম। দেশে কৃত্রিম গ্যাস সংকট তৈরি করে মূল্যবৃদ্ধির পায়তারা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, গ্যাসের দাম এক টাকাও বাড়ানো হলে আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা হবে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর সচিবালয় অভিমুখে ১১ দলীয় জোটের পূর্বঘোষিত কর্মসূচিতে পুলিশি বাধার মুখে পড়ে নেতাকর্মীরা। পরবর্তীতে সেখানে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত পথসভায় অংশ নিয়ে নাহিদ ইসলাম এসব কথা বলেন।
বক্তব্যে সরকারের পূর্ববর্তী বিভিন্ন উদ্যোগ ও প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বিরোধীদলীয় এই প্রতিনিধি বলেন, ইতিপূর্বে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম না বাড়ানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে এসব প্রতিশ্রুতির কোনো প্রতিফলন ঘটেনি। উল্টো সিন্ডিকেটের সঙ্গে যোগসাজশ করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির মাধ্যমে জনভোগান্তি বাড়ানো হচ্ছে এবং ব্যবসায়িক মুনাফা লোটার অপচেষ্টা চলছে। জনস্বার্থবিরোধী এসব কর্মকাণ্ড দেশের সাধারণ মানুষ মেনে নেবে না।
একই সাথে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও নাগরিক সুবিধার বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমানে চাল, ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আকাশচুম্বী দামের কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা চরম সংকটের মুখে পড়েছে। মানুষের কর্মসংস্থানের কোনো সুযোগ তৈরি হচ্ছে না, অথচ পানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মত মৌলিক নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে সরকার। উপরন্তু বিভিন্ন খাত থেকে চাঁদাবাজি বৃদ্ধির কারণে স্বাভাবিক অর্থনৈতিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।
সরকারের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে এনসিপি নেতা আরও উল্লেখ করেন, গণভোটের রায় কার্যকর করা, সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন এবং বহুল আলোচিত ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা এখনও আলোর মুখ দেখেনি। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও জনগণের সুশাসনের আকাক্সক্ষাকে উপেক্ষা করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিরোধী ভাবাপন্ন শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও নির্বাচিত ছাত্র সংসদ প্রতিনিধিদের কার্যক্রম বিঘ্নিত করে ক্যাম্পাস দখলের চেষ্টা চলছে, যা দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশকে আরও সংকটাপন্ন করে তুলছে।
সমাবেশ থেকে ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে সরকারের প্রতি সরাসরি বেশ কিছু দাবি উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে—গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রক্রিয়া অবিলম্বে স্থগিত করা, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা, বাজারে সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজি বন্ধ করে নিত্যপণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আনা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া।
জনগণকে দেওয়া এসব ওয়াদা দ্রুত বাস্তবায়ন করা না হলে আগামীতে আন্দোলনের ব্যাপ্তি সচিবালয় ছাড়িয়ে সংসদ ভবন ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পর্যন্ত প্রসারিত করা হবে বলে হুঁশিয়ার করে দেওয়া হয়। বিদ্যমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ইতিবাচক পদক্ষেপ না নিলে দেশের সাধারণ জনগণকে সাথে নিয়ে আরও কঠোর ও রাজপথের সমন্বিত কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে বিরোধী জোটের পক্ষে ঘোষণা দেওয়া হয়।


