নীলফামারীতে ১০০০ শয্যার চীন-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতাল নির্মাণের পথসুগম: ইআরডির কাছে স্বাস্থ্য বিভাগের চিঠি

নীলফামারীতে ১০০০ শয্যার চীন-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতাল নির্মাণের পথসুগম: ইআরডির কাছে স্বাস্থ্য বিভাগের চিঠি

জাতীয় ডেস্ক
নীলফামারীর সৈয়দপুরে প্রস্তাবিত ১০০০ শয্যার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী জেনারেল হাসপাতাল প্রকল্পের প্রাথমিক অবকাঠামো পরিদর্শনে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে। প্রস্তাবিত জমিটি প্রকল্প নির্মাণের উপযুক্ত হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় এখন বিস্তারিত সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের (ফিজিবিলিটি স্টাডি) জন্য চীনা কারিগরি দলের সফর প্রত্যাশা করছে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ। প্রকল্প বাস্তবায়নের পরবর্তী ধাপ দ্রুত ত্বরান্বিত করতে দলটি কবে বাংলাদেশে আসবে, তা চীনা দূতাবাসের মাধ্যমে নিশ্চিত করতে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগকে (ইআরডি) চিঠি দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের স্থান ও প্রাথমিক পরিকাঠামো মূল্যায়নের জন্য গত বছরের মে মাসে চায়না ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন এজেন্সির (সিডকা) একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফর করে। রংপুর ও নীলফামারীর প্রস্তাবিত স্থান পরিদর্শনের পর বিভাগীয় সভায় প্রতিনিধি দলের প্রধান জানান, বিদ্যুৎ ও সুপেয় পানি সরবরাহের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা বিদ্যমান থাকায় স্থানটি আন্তর্জাতিক মানের এই হাসপাতাল নির্মাণের জন্য সম্পূর্ণ উপযুক্ত। পরিদর্শনের প্রাথমিক মূল্যায়ন প্রতিবেদন চীনা দূতাবাসে পাঠানো হলেও বিস্তারিত ইনভেস্টমেন্ট প্রজেক্ট ডকুমেন্ট (আইপিডি) তৈরির জন্য চীনা বিশেষজ্ঞ দলের চূড়ান্ত সম্ভাব্যতা সমীক্ষা অত্যন্ত জরুরি। আইপিডির মাধ্যমেই এই বিশাল প্রকল্পের মোট প্রাক্কলিত ব্যয় এবং অবকাঠামোগত পরিধি ও বাস্তবায়ন কৌশল নির্ধারিত হবে। তবে এখনো পর্যন্ত ইআরডি কিংবা চীনা দূতাবাস পরবর্তী সফরের সুনির্দিষ্ট সময়সূচি আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি। ফলে প্রকল্পের পরবর্তী দাপ্তরিক অনুমোদন প্রক্রিয়া থমকে আছে। দ্রুততম সময়ে কারিগরি দলের সফরসূচি নিশ্চিত করতে ইআরডিকে বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে, যাতে অনুদান চুক্তির আইনি ভিত্তি জোরদার করা সম্ভব হয়।
প্রকল্পের বিবরণ অনুযায়ী, নীলফামারী-সৈয়দপুর মহাসড়কের পাশে চড়াইখোলা ইউনিয়নে অবস্থিত দারওয়ানী টেক্সটাইল মিলসের সংলগ্ন ২৫ একরের বেশি জমির ওপর এই মেগা হাসপাতালটি নির্মিত হবে। নীলফামারী গণপূর্ত বিভাগ ইতোমধ্যে প্রকল্প এলাকার সার্বিক সুবিধার্থে জমি অধিগ্রহণের কাজ সম্পাদন করেছে। এটি মূলত চীন সরকারের পূর্ণ অনুদান সহায়তায় বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তাবিত। চলতি বছরের ২৪ জানুয়ারি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) প্রকল্পটির শর্তসাপেক্ষ নীতিগত অনুমোদন দিলেও চীনের অর্থায়নের চূড়ান্ত দাপ্তরিক নিশ্চিতকরণ না পাওয়ায় পূর্ণাঙ্গ অনুমোদন প্রক্রিয়া প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ইআরডির সাথে চীনা দূতাবাসের দ্বিপাক্ষিক আলোচনার পর সফরসূচি চূড়ান্ত হলেই প্রকল্পের গতি বৃদ্ধি পাবে।
প্রস্তাবিত হাসপাতালটি চালু হলে তা দেশের উত্তরাঞ্চলের চিকিৎসাসেবার সার্বিক চিত্রে একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে। আন্তর্জাতিক মানের এই চিকিৎসা কেন্দ্রে অনকোলজি (ক্যান্সার), নিউরোলজি, কার্ডিওলজি, নেফ্রোলজি এবং শিশু ও নবজাতকদের জন্য সর্বাধুনিক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) অন্তর্ভুক্ত থাকবে। পাশাপাশি ২০০ টি মেশিনের সুবিধাসংবলিত বৃহৎ ডায়ালাইসিস ইউনিট ও উন্নত রোগ নির্ণয়কারী ল্যাব স্থাপন করা হবে। আধুনিক সমন্বিত এই চিকিৎসা কেন্দ্রটি রংপুর বিভাগের আটটি জেলা সহ পার্শ্ববর্তী পঞ্চগড়, দিনাজপুর ও গাইবান্ধার প্রান্তিক মানুষের সুচিকিৎসা প্রাপ্তি নিশ্চিত করবে। এতে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা খরচ কয়েক গুণ হ্রাস পাওয়ার পাশাপাশি উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা বা রংপুরের ওপর অতিরিক্ত চাপ বহুলাংশে কমবে। আন্তর্জাতিক মানের বিশেষায়িত সেবার প্রসারে এই প্রকল্প কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জাতীয় শীর্ষ সংবাদ