ভারতের সংঘর্ষের ভিডিও বাংলাদেশে হিন্দু নিপীড়ন দাবিতে প্রচারের অপচেষ্টা শনাক্ত করল বাংলাফ্যাক্ট

ভারতের সংঘর্ষের ভিডিও বাংলাদেশে হিন্দু নিপীড়ন দাবিতে প্রচারের অপচেষ্টা শনাক্ত করল বাংলাফ্যাক্ট

জাতীয় ডেস্ক
ভিন্ন দেশের সহিংস ঘটনার পুরনো ভিডিও ব্যবহার করে বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা ও জমি দখলের বিভ্রান্তিকর অপতথ্য ছড়ানোর একটি সংগঠিত অপচেষ্টা শনাক্ত করেছে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) ফ্যাক্ট চেক ও মিডিয়া রিসার্চ টিম ‘বাংলাফ্যাক্ট’। সম্প্রতি ভারতের অভ্যন্তরীণ একটি সংঘাতের দৃশ্যকে বাংলাদেশের ঘটনা হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করার প্রমাণ পেয়েছে সংস্থাটি।
বাংলাফ্যাক্টের অনুসন্ধানে জানা যায়, সম্প্রতি আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বেশ কিছু অ্যাকাউন্ট থেকে একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়। সেখানে দাবি করা হয়, বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের জমি দখলের উদ্দেশ্যে ইসলামপন্থীরা হামলা চালিয়েছে। তবে ভিডিওটির উৎস ও সত্যতা যাচাই করে বাংলাফ্যাক্ট নিশ্চিত করেছে যে, ঘটনাটি বাংলাদেশের নয়। মূলত ভারতের আসাম রাজ্যে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে স্থানীয় দুই পক্ষের মধ্যে ঘটে যাওয়া একটি সংঘর্ষের দৃশ্য এটি। সেই ভিডিওকেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সাজিয়ে ভুয়া বিবরণসহ ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
পিআইবি’র এই ফ্যাক্টচেক ও মিডিয়া রিসার্চ টিম জানায়, বিশেষ করে ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে দেশ ও বিদেশ থেকে পরিচালিত নির্দিষ্ট কিছু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট, ব্যক্তিগত প্রোফাইল ও পেজ থেকে বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে অপতথ্য ছড়ানোর মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব অপপ্রচারে প্রধানত দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সাম্প্রতিক অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থাপনা, আন্দোলনে অংশ নেওয়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন এবং দেশের সার্বিক সংবেদনশীল সামাজিক ইস্যুগুলোকে নিশানা করা হচ্ছে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করা এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করাই এসব গুজবের মূল লক্ষ্য।
প্রযুক্তির অগ্রগতি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যাপক প্রসারের কারণে বর্তমানে ডিজিটাল স্পেসে গুজব ও ভুল তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এ জাতীয় কাল্পনিক ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার সাধারণ মানুষের মধ্যে অহেতুক আতঙ্ক ও অস্থিরতা তৈরি করতে পারে, যা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
ইন্টারনেটে ভেসে থাকা শত শত ভুল ও মিথ্যা তথ্য বস্তুনিষ্ঠভাবে যাচাই-বাছাই করে সঠিক চিত্র তুলে ধরতে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে পিআইবি’র বাংলাফ্যাক্ট টিম। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে দায়িত্বশীল আচরণ বজায় রাখা, যেকোনো তথ্য যাচাই ছাড়া বিশ্বাস বা শেয়ার না করা এবং কেবল নির্ভরযোগ্য সংবাদ মাধ্যম ও তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠানের ওপর আস্থা রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট গবেষক ও বিশেষজ্ঞরা সর্বসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
জাতীয় শীর্ষ সংবাদ