অর্থ ও বাণিজ্য ডেস্ক
রাজশাহীতে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি। ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার বিপ্লব ও আওয়ামী রাজনৈতিক শাসনের পতনের দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে জেলা শহরজুড়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়। কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত এক সমাবেশে রাজশাহীর সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কৃষি সহায়তা বৃদ্ধি এবং অবকাঠামোগত সংস্কারের একাধিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন সরকারের নীতি নির্ধারকরা।
বুধবার নগরীর আলুপট্টিতে আয়োজিত উক্ত সমাবেশে বক্তারা বিগত দেড় দশকের রাজনৈতিক আন্দোলন, সাধারণ জনগণের ত্যাগের ইতিহাস এবং ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট বিস্তারিত তুলে ধরেন। সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বলেন, রাজশাহীর অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাঠামোকে শক্তিশালী করতে সরকার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যে রাজশাহীর সর্বস্তরের নারীদের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং স্থানীয় কৃষকদের ‘কৃষক কার্ড’-এর আওতায় নিয়ে আসা হবে। এর মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতি ও কৃষি খাতে নতুন গতির সঞ্চার হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
অঞ্চলের যোগাযোগ ও শিল্প ব্যবস্থার প্রসারে একাধিক মেগা প্রকল্পের কথা ঘোষণা করে মন্ত্রী জানান, রাজশাহী বিমানবন্দরকে সম্প্রসারণ করে একটি পূর্ণাঙ্গ কার্গো বিমানবন্দরে রূপান্তরিত করা হবে। এর ফলে উত্তরবঙ্গের বাণিজ্যিক সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে এবং স্থানীয় পণ্য সরাসরি বহির্বিশ্বে রপ্তানি করা সম্ভব হবে। এ ছাড়া অঞ্চলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে চারটি নতুন রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা (ইপিজেড) স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থার বৈপ্লবিক উন্নয়নে রাজশাহী থেকে হাটিকুমরুল পর্যন্ত মহাসড়কটিকে চার লেনে উন্নীত করার কাজের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
স্বাস্থ্যসেবা খাতের সংস্কার ও প্রসারের বিষয়ে সমাবেশে জানানো হয়, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অসম্পূর্ণ কাজসমূহ দ্রত শেষ করার পাশাপাশি জেলায় নতুন একটি পূর্ণাঙ্গ জেলা হাসপাতাল এবং একটি পৃথক ডেন্টাল কলেজ স্থাপন করা হবে। একই সাথে দীর্ঘদিন বন্ধ বা স্থবির হয়ে থাকা শিল্প হাসপাতালের কার্যক্রম পুরোদমে চালু করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
জাতীয় রাজনীতি ও বিগত আন্দোলনের ইতিহাস স্মরণ করে ভূমিমন্ত্রী বলেন, ১৭ বছরের দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, মূলধারার দলগুলোর সমন্বিত কৌশল এবং সর্বশেষে ছাত্র-জনতার সরাসরি অংশগ্রহণে সংঘটিত রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমেই দেশে ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটেছে। তিনি ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বীর শহীদদের আত্মত্যাগের কথা গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।
অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ সাকিব আনজুমের পিতা আইনুল হক এবং আন্দোলনের সময় আহত সাধারণ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত থেকে তাঁদের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা ও স্মৃতিচারণমূলক বক্তব্য প্রদান করেন। বক্তারা জুলাই আন্দোলনের মূল চেতনা ধরে রেখে নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে মূখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ শাহিন শওকত। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে স্থানীয় সংসদ সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সমাবেশ থেকে রাজশাহীকে একটি আধুনিক, শিল্পসমৃদ্ধ এবং বৈষম্যহীন মডেল অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার সম্মিলিত অঙ্গীকার প্রকাশ করা হয়।


