আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক সংঘাত খুব দ্রুতই সমাপ্তির দিকে পৌঁছে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে দীর্ঘ মেয়াদী এই যুদ্ধের ফলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর অত্যাধুনিক কিছু দূরপাল্লার ও উচ্চ-নির্ভুলতার অস্ত্রের মজুতে যে চাপের সৃষ্টি হয়েছে, তা প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন তিনি। পরিস্থিতি সামাল দিতে টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরঞ্জাম তৈরির জন্য নতুন নতুন উৎপাদন কারখানা স্থাপন করা হচ্ছে বলেও তিনি নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সামরিক পরিস্থিতি নিয়ে নিজের এ পর্যবেক্ষণ জানান। তিনি দাবি করেন, প্রতিপক্ষের সামরিক সক্ষমতা হ্রাস পাওয়ার কারণেই এই যুদ্ধ আর দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা কম। ট্রাম্প বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান কৌশলগত অবস্থান ও সামরিক গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করে তিনি বিশ্বাস করেন যুদ্ধটি শেষ হতে আর বেশি সময় লাগবে না। প্রতিপক্ষ সামরিক বাহিনী দীর্ঘ মেয়াদে এই সংঘাত টিকিয়ে রাখতে পারবে না বলেও মনে করেন তিনি।
চলমান সংঘাতের কারণে মার্কিন অস্ত্রের সংস্থান ও বৈশ্বিক মজুত ব্যবস্থাপনা নিয়ে নানা মহলে কৌতূহল দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ ও কিছু নির্দিষ্ট শ্রেণির উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন অস্ত্র ও গোলাবারুদের সরবরাহ পর্যাপ্ত এবং তা কার্যত সীমাহীন। তবে একই সাথে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার স্বার্থে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে মোতায়েন থাকা এবং সাম্প্রতিক যুদ্ধে ব্যবহৃত কিছু বিশেষ ধরনের উচ্চ-প্রযুক্তির অস্ত্রের মজুতে যে টান পড়েছে, তাও স্বীকার করেন তিনি।
মূলত চলমান এই সংঘাতে মার্কিন বাহিনী বিপুল পরিমাণ নিখুঁত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। ফলশ্রুতিতে নিজস্ব ও বৈশ্বিক সামরিক মজুত ভারসাম্যপূর্ণ রাখা দেশটির প্রতিরক্ষা খাতের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় মার্কিন প্রতিরক্ষা শিল্প খাতকে ত্বরান্বিত করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। টমাহক ক্রুজ মিসাইল এবং প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উৎপাদন বহুগুণ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন উৎপাদন স্থাপনা ও কারখানা নির্মাণের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন প্রাধিকারপ্রাপ্ত অস্ত্র উৎপাদনে জোর দেওয়ার এই ঘটনাটি ইঙ্গিত দেয় যে, ওয়াশিংটন তাৎক্ষণিকভাবে সংঘাত নিষ্পত্তির আশা করলেও দীর্ঘমেয়াদী বৈশ্বিক নিরাপত্তা কৌশল ও নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পুনর্গঠনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।


