রাজনীতি ডেস্ক
সরকার ঘোষিত ভাতা পাইয়ে দেওয়ার নামে স্থানীয় একটি মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমের কাছ থেকে অনৈতিকভাবে অর্থ আদায়ের অভিযোগে লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে বিএনপি—র দুই স্থানীয় নেতাকে দল থেকে স্থায়ীভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে নেওয়া এই সিদ্ধান্ত স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
অব্যাহতি পাওয়া ব্যক্তিরা হলেন রামগঞ্জ উপজেলার দরবেশপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি—র সভাপতি হারুন অর রশিদ এবং সাধারণ সম্পাদক মো. ইউছুফ। দলীয় দায়িত্ব ও পদের অপব্যবহার করে সাধারণ ধর্মীয় সেবকদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের প্রাথমিক সত্যতা মেলায় ইউনিয়ন কমিটি তাদের বিরুদ্ধে এ কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
সংগঠন সূত্রে জানা যায়, সরকার কর্তৃক প্রবর্তিত বিশেষ ভাতার তালিকাভুক্ত করার সুযোগ নিয়ে ওই দুই নেতা দরবেশপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের একটি মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন এবং খাদেমের কাছ থেকে মোট ১৫ হাজার টাকা আদায় করেন। ভুক্তভোগী তিনজনের প্রত্যেকের নিকট থেকে পাঁচ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে দরবেশপুর ইউনিয়ন বিএনপি—র সভাপতি খোরশেদ আলম এবং সাংগঠনিক সম্পাদক জামাল উদ্দিন সরজমিনে ঘটনাটির তদন্ত করেন এবং অনিয়মের সত্যতা পান।
অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর শুক্রবার সন্ধ্যায় দরবেশপুর ইউনিয়ন বিএনপি—র সভাপতি খোরশেদ আলম, সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান এবং সাংগঠনিক সম্পাদক জামাল উদ্দিনের যৌথ স্বাক্ষরে একটি আনুষ্ঠানিক অব্যাহতিপত্র জারি করা হয়। পত্রে উল্লেখ করা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা চরমভাবে ভঙ্গ করায় হারুন অর রশিদ ও মো. ইউছুফকে দলীয় পদ থেকে স্থায়ীভাবে অব্যাহতি দেওয়া হলো। একই সঙ্গে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়, ভবিষ্যতে তারা দলীয় পরিচয়ে কোনো কর্মকাণ্ড পরিচালনা করলে তার যাবতীয় দায়ভার তাদের ব্যক্তিগত। অনুলিপি পাঠানো হয়েছে স্থানীয় সাবেক সংসদ সদস্য এবং উপজেলা বিএনপি—র দায়িত্বশীলদের কাছে।
দরবেশপুর ইউনিয়ন বিএনপি—র সভাপতি খোরশেদ আলম জানান, রাষ্ট্রীয় ভাতা প্রাপ্তিতে মধ্যস্বত্বভোগী সেজে অর্থ আদায়ের ঘটনা তদন্তে সম্পূর্ণ প্রমাণিত হয়েছে। অভিযুক্ত নেতারা মসজিদ কমিটির কোষাধ্যক্ষকে জড়িয়ে দায় এড়ানোর চেষ্টা করলেও অনুসন্ধানে মূল জড়িত হিসেবে তাদের নাম উঠে এসেছে। দলীয় ভাবমূর্তি রক্ষা এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার বার্তা দিতেই এ সিদ্ধান্ত।
অভিযোগ ও দলীয় বহিষ্কারের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত হারুন অর রশিদ এবং মো. ইউছুফের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের সংযোগ পাওয়া যায়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকারি সামাজিক কিংবা ধর্মীয় নিরাপত্তা বেষ্টনীর সুবিধাদি প্রাপ্তিতে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার ও অর্থ আদায়ের মতো অনিয়ম তৃণমূল পর্যায়ে প্রায়ই দেখা যায়। রামগঞ্জের এই ঘটনায় প্রশাসনিক তদন্তের পাশাপাশি আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না, সেদিকেই এখন সবার নজর।


