ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় দেশে ফেরার কোনো সুযোগ নেই  : প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক

ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় দেশে ফেরার কোনো সুযোগ নেই : প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক

ক্রীড়া ডেস্ক
সন্ত্রাস ও হত্যাসহ একাধিক মামলার আসামি এবং শেখ হাসিনা সরকারের সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসান দেশে ফিরতে সরকারের কাছে নিরাপত্তার গ্যারান্টি চান। রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, “সরকারের কাছ থেকে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পেলে আমি সানন্দে দেশে ফিরব।” তবে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক সাকিবের এই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন।
সাকিবের বক্তব্যের জবাবে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমরা অনেক নমনীয়, অনেক সহনশীলভাবেই জিনিসটাকে দেখছিলাম। এরপরে আর মনে হয় না যে ওইভাবে চিন্তা করার সুযোগ আছে।” সাকিবের দলীয় ও রাজনৈতিক ভূমিকা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রতিমন্ত্রী আরও যুক্ত করেন, “যে স্বৈরাচারের স্টেজে উঠেছে, তাঁর তো আর আসার সুযোগ আছে বলে মনে হয় না। একজন খেলোয়াড় হিসেবে যেটা আমরা চিন্তা করছিলাম, আমরা নমনীয় ছিলাম। এখন আর কোনো সুযোগ নেই। সে যদি আসে, তাহলে আইনগতভাবে আসবে।”
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে সাকিব তার পরিবারসহ যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের লং আইল্যান্ডে বসবাস করছেন। শ্রীলঙ্কায় লঙ্কান প্রিমিয়ার লিগ (এলপিএল) খেলার ফাঁকে টেলিকমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, তিনি আগের অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও স্বরাষ্ট্র, আইন ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়সহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে মামলা প্রত্যাহারের আবেদন করেছিলেন। তার বিরুদ্ধে হওয়া মামলাগুলোকে ‘বানোয়াট’ দাবি করে সাকিব জানান, তিনি এখনও শেখ হাসিনার নেতৃত্বের অনুসারী এবং শেখ হাসিনার সঙ্গে অথবা তার নির্দেশনানুসারেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন। সম্প্রতি দিল্লিতে শেখ হাসিনার এক ভার্চ্যুয়াল রাজনৈতিক সংবাদ সম্মেলনেও অংশ নেন এই অলরাউন্ডার।
সাকিবের দেশের রাজনীতি ও পলাতক সরকারের প্রতি এহেন আনুগত্যকে কেন্দ্র করে সরকার এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রেস সচিব আবু আবদুল্লাহ এম ছালেহ এ প্রসঙ্গে রয়টার্সকে স্পষ্ট ভাষায় জানান, পতিত ও পরাজিত ফ্যাসিবাদী সরকারের সদস্য হওয়ার পরিণতি সাকিবকে ভোগ করতেই হবে।
প্রেস সচিব আরও বলেন, “বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে সাকিব আল হাসানের জন্য আবার জায়গা তৈরি করতে বর্তমান সরকারের একেবারেই কিছু করার নেই। পরিচয় বা পদবি যা-ই হোক না কেন, বাংলাদেশের প্রচলিত আইন সবার জন্য সমান। আইনের চোখে সাকিব আল হাসান একজন আসামি। বিচারপ্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে তাঁকে অবশ্যই বাংলাদেশের আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে।”
সব মিলিয়ে আইনি সুবিধা বা বিশেষ নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সাকিবের জাতীয় দলে ফেরা কিংবা বিদায়ী ম্যাচ খেলার স্বপ্ন এখন সম্পূর্ণরূপে অনিশ্চিত। রাজনৈতিক সশ্রদ্ধা বজায় রেখে অপরাধের দায় এড়ানোর সুযোগ নেই বলে ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় উভয়েই স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে।
খেলাধূলা শীর্ষ সংবাদ