শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের লাউঞ্জে আগুন, সাময়িক যাত্রীসেবা ব্যাহত

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের লাউঞ্জে আগুন, সাময়িক যাত্রীসেবা ব্যাহত

অপরাধ ও দুর্ঘটনা ডেস্ক
রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহির্গমন টার্মিনালে অবস্থিত বলাকা লাউঞ্জে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার দিবাগত রাতে সংঘটিত এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া না গেলেও লাউঞ্জটিতে আগুনের প্রভাবে তীব্র ধোঁয়ার সৃষ্টি হয় এবং সাময়িকভাবে যাত্রীসেবা স্থগিত রাখা হয়। পরবর্তীতে বিমানবন্দর ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত পদক্ষেপে আগুন পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনে কর্তৃপক্ষ।
বিমানবন্দর ফায়ার সার্ভিস স্টেশন ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রাত চলাকালীন সময় বলাকা লাউঞ্জের ভেতরের অংশ থেকে হঠাৎ ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। কয়েক মিনিটের মধ্যে পুরো লাউঞ্জ এবং এর আশপাশের এলাকা ঘন ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। হঠাৎ এই পরিস্থিতিতে লাউঞ্জে অবস্থানরত দেশি-বিদেশি যাত্রী ও কর্মরত কর্মীদের মধ্যে সাময়িক আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। তারা দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যান। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন।
প্রাথমিক তদন্ত ও ফায়ার সার্ভিসের বিবরণ অনুযায়ী, বলাকা লাউঞ্জের রান্নাঘরের একটি বৈদ্যুতিক ক্যাবল বা তার থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। ক্যাবলের শর্ট সার্কিট থেকে সৃষ্ট আগুন দ্রুত আশেপাশের অংশে ছড়ানোর চেষ্টা করলেও ফায়ার সার্ভিসের নিজস্ব ইউনিটের তত্পরতায় তা বড় ধরনের রূপ নিতে পারেনি। অগ্নিকাণ্ড ও ধোঁয়ার তীব্রতার কারণে নিরাপত্তার স্বার্থে ওই সময়ে বলাকা লাউঞ্জের নিয়মিত কার্যক্রম এবং যাত্রীসেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। তবে ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা আগুন সম্পূর্ণ নিভিয়ে ফেলার পর ধোঁয়া দূরীকরণের পদক্ষেপ গ্রহণ করেন এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনেন।
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রধান বহির্গমন টার্মিনালে অবস্থিত বলাকা লাউঞ্জটি মূলত আন্তর্জাতিক ও দূরপাল্লার রুটের যাত্রীদের প্রস্থানপূর্ব অপেক্ষা, বিশ্রাম এবং খাওয়া-দাওয়ার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রিমিয়াম সেবা কেন্দ্র। প্রতিদিন বহু যাত্রী এই সুবিধা গ্রহণ করে থাকেন। আন্তর্জাতিক একটি বিমানবন্দরের সংবেদনশীল এলাকায় এ ধরনের অগ্নিকাণ্ডকে নিরাপত্তা কাঠামোর দৃষ্টিতে গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে।
ঘটনার পরপরই বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট স্থানে প্রাথমিক পরিদর্শন পরিচালনা করেছে। রান্নাঘর ও সংলগ্ন বৈদ্যুতিক ব্যবস্থার ফায়ার সেফটি প্রোটোকল যথাযথভাবে মেনে চলা হয়েছিল কি না, অথবা কারিগরি কোনো ত্রুটি ছিল কি না তা পর্যালোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের ফলে কী পরিমাণ আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং লাউঞ্জটির কাঠামোগত কোনো ক্ষতি হয়েছে কি না, তা নিরূপণে সংশ্লিষ্ট কারিগরি দল কাজ করছে। প্রাথমিক সুরক্ষামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ শেষে লাউঞ্জটির কার্যক্রম পুনরায় পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
জাতীয় শীর্ষ সংবাদ