গাজা সিটিতে ধ্বংসস্তূপ থেকে নারী-সিসুসহ ১৯ জনের মরদেহ উদ্ধার

গাজা সিটিতে ধ্বংসস্তূপ থেকে নারী-সিসুসহ ১৯ জনের মরদেহ উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ফিলিস্তিনের গাজা সিটিতে একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত আবাসিক ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে নারী ও শিশুসহ ১৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে স্থানীয় সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ। চার দিন ধরে টানা তল্লাশি অভিযান চালানোর পর শনিবার গাজা সিটির পশ্চিমাঞ্চলের ‘কারাম’ ভবন থেকে এসব মরদেহ বের করে আনা সম্ভব হয়।

ভারী যন্ত্রপাতির তীব্র সংকটের কারণে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। উন্নত সরঞ্জাম না থাকায় উদ্ধারকারীদের মূলত সাধারণ কোদাল, শাবল এবং হাত ব্যবহার করে কংক্রিটের বিশাল স্তূপ সরাতে হচ্ছে। উদ্ধার কার্যক্রমের দায়িত্বে থাকা মোহাম্মদ আবু দান জানান, কারাম ভবনে কাজ শেষ করার পর সিভিল ডিফেন্স ও বিশেষায়িত চিকিৎসক দল গাজা সিটির অন্য একটি স্থানে অনুসন্ধান শুরু করতে যাচ্ছে। পর্যাপ্ত উদ্ধার সামগ্রী না থাকায় অনেক স্থানেই সময়মতো সেবা পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, পুরো ভূখণ্ডজুড়ে এখনো আট হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের একটি বড় অংশ ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবনের নিচে চাপা পড়ে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপ থেকে ৮০৪টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সংঘাত সম্পর্কিত বিভিন্ন সহিংসতায় এই সময়কালে অন্তত ১,২৫৪ জন নিহত এবং ৪,১২১ জন আহত হয়েছেন।

এর আগে গাজা সিটির সাবরা এলাকায় ২০২৩ সালের নভেম্বরে হামলায় বিধ্বস্ত একটি আবাসিক ভবনের নিচ থেকে উদ্ধার হওয়া ১১২ জনের মরদেহ একযোগে দাফন করা হয়। গণদাফন করা এই মৃতদেহের মধ্যে আবু শরিয়া ও আল-হাসাইনা পরিবারের সদস্যরা ছিলেন। গত ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া রক্তক্ষয়ী এই সংঘাতে এ পর্যন্ত মোট নিহতের সংখ্যা ৭৩ হাজার ৩০০ ছাড়িয়েছে এবং আহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে অন্তত ১ লাখ ৭৪ হাজারে। বারবার যুদ্ধবিরতি ও উদ্ধার প্রচেষ্টার উদ্যোগ সত্ত্বেও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি আমদানিতে বাধা থাকায় মানবিক বিপর্যয় আরও ঘনীভূত হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ