রাজনীতি ডেস্ক
দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনের লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তুতি শুরু করেছে ক্ষমতাসীন দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। রোববার (৯ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন ভবন থেকে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কার্যালয় থেকে দলটির পক্ষে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়। জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও দলের ভাইস চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম মনি এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী উপস্থিত থেকে এই মনোনয়নপত্রগুলো গ্রহণ করেন।
নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইনে একই প্রার্থীর জন্য একাধিক মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার বিধান রয়েছে। কোনো একটি মনোনয়নপত্রে তথ্যগত বা কারিগরি ত্রুটি থাকলে যাতে প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল না হয়, তা নিশ্চিত করতেই সাধারণত দুটি করে ফরম সংগ্রহ করা হয়। তবে বিএনপি ঠিক কার নামে বা কাদের জন্য এই মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দলটির পক্ষ থেকে এখনো কারো নাম ঘোষণা করা হয়নি।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব আখতার আহমেদ আনুষ্ঠানিকভাবে ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ঘোষিত তফসিল প্রকাশ করেন। ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী ১৩ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সিইসি বা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করার সুযোগ রয়েছে। সংগৃহীত মনোনয়নপত্রগুলোর বাছাই কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে ১৬ আগস্ট এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮ আগস্ট বিকেল ৪টা পর্যন্ত।
যদি একাধিক বৈধ প্রার্থী নির্বাচনী লড়াইয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, তবে আগামী ২০ আগস্ট বেলা ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশনকক্ষে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হবে। ইতোমধ্যেই নির্বাচনী কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য নির্বাচন কমিশন ২৪৯ জন আইনপ্রণেতাকে অন্তর্ভুক্ত করে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে। সংবিধান এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন অনুযায়ী, জাতীয় সংসদের সদস্যরাই রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচনের জন্য ভোট প্রদান করে থাকেন।
উল্লেখ্য, গত ২৪ জুলাই শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেন। রাষ্ট্রপতির পদটি শূন্য হওয়ার পর সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা পূরণে নতুন রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচন আয়োজনের উদ্যোগ নেয় নির্বাচন কমিশন। সংবিধান অনুযায়ী, পদ শূন্য হওয়ার নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের মতে, সংসদীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সাধারণত সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী দল বা জোটের মনোনীত প্রার্থীই রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়ে থাকেন। যদি ১৮ আগস্ট প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময়সীমা শেষে বিএনপি সমর্থিত একক প্রার্থী থাকেন, তবে নির্বাচন বিধি অনুসারে ভোটগ্রহণের প্রয়োজন হবে না; বাছাই পর্ব বা প্রার্থিতা প্রত্যাহারের দিনই তাকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী ঘোষণা করা হতে পারে। অন্যথায়, ঘোষিত তফসিল অনুসারে নির্ধারিত দিনে জাতীয় সংসদেই হবে নতুন রাষ্ট্রপ্রধান নির্ধারণের চূড়ান্ত নির্বাচন।


