শিক্ষা ও ক্যাম্পাস ডেস্ক
মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের নির্ধারিত তারিখ আগামীকাল সোমবার (১০ আগস্ট)। ফলাফল প্রকাশের পরপরই দেশজুড়ে একযোগে শুরু হতে যাচ্ছে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির প্রক্রিয়া। কাঙ্ক্ষিত কলেজে পছন্দের বিভাগে স্থান পেতে লাখ লাখ শিক্ষার্থী যখন প্রস্তুত হচ্ছে, তখন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ভর্তি ফি, আনুষঙ্গিক খরচ এবং পরিচালনাগত ব্যয় অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের প্রধান চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পূর্বের নিয়ম বহাল রেখে এবারও এসএসসির অর্জিত ফলাফলের ভিত্তিতেই একাদশ শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। ভর্তি প্রক্রিয়া, ফি এবং আনুমানিক খরচ সম্পর্কিত বোর্ড নির্দেশিত সামগ্রিক কাঠামোর একটি পূর্ণাঙ্গ বিবরণ নিচে তুলে ধরা হলো।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ড সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দেশের এমপিওভুক্ত (মান্থলি পে-অর্ডার) শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সরকারের ভর্তুকি থাকার কারণে ভর্তির খরচ তুলনামূলক সীমিত রাখা হয়েছে। এলাকাভেদে এই ফির তারতম্য রয়েছে। নীতিমালায় নির্ধারিত ফি অনুযায়ী, ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় অবস্থিত এমপিওভুক্ত কলেজগুলোতে বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভার্সনে একাদশ শ্রেণিতে সর্বোচ্চ ভর্তি ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার টাকা। ঢাকা ব্যতীত অন্য যেকোনো মেট্রোপলিটন বা বিভাগীয় শহরের এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে উভয় ভার্সনের জন্য এই ফি ৩ হাজার টাকা। এছাড়া জেলা পর্যায়ের এমপিওভুক্ত কলেজে ভর্তির সর্বোচ্চ ফি ২ হাজার টাকা এবং উপজেলা বা মফস্বল পর্যায়ের প্রতিষ্ঠানে তা ১ হাজার ৫০০ টাকা ধার্য করা হয়েছে। সরকারি ও এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোতে এই নির্ধারিত ফির বাইরে বাড়তি কোনো ফি আদায়ের সুযোগ নেই।
অন্যদিকে, যেসব বেসরকারি কলেজ এমপিওভুক্ত নয় অর্থাৎ নন-এমপিও প্রতিষ্ঠান, সেগুলোতে ভর্তি ফি ও আনুষঙ্গিক খরচ কিছুটা বেশি। তবে সেখানেও যেন অভিভাবকদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা চেপে না বসে, সেজন্য শিক্ষা বোর্ড সর্বোচ্চ ফি নির্ধারণ করে দিয়েছে। ঢাকার নন-এমপিওভুক্ত কলেজে বাংলা ভার্সনে ভর্তির সর্বোচ্চ ফি ৭ হাজার ৫০০ টাকা এবং ইংরেজি ভার্সনে ৮ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ঢাকা ছাড়া অন্য মেট্রোপলিটন এলাকায় অবস্থিত নন-এমপিও প্রতিষ্ঠানে বাংলা ভার্সনে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা এবং ইংরেজি ভার্সনে ৬ হাজার টাকা ফি নেওয়া যাবে। অন্যদিকে, জেলা পর্যায়ের নন-এমপিও কলেজে বাংলা ভার্সনে ৩ হাজার টাকা ও ইংরেজি ভার্সনে ২ হাজার ৫০০ টাকা ভর্তি ফি নির্ধারিত রয়েছে। উপজেলা ও মফস্বল এলাকায় নন-এমপিও কলেজে বাংলা ভার্সনের ক্ষেত্রে ২ হাজার ৫০০ টাকা এবং ইংরেজি ভার্সনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৩ হাজার টাকা ভর্তি ফি হিসেবে আদায় করতে পারবে প্রতিষ্ঠানগুলো।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রদেয় ভর্তি ফি ছাড়া প্রাথমিক নিশ্চায়নের সময় প্রতিটি শিক্ষার্থীকে শিক্ষা বোর্ডের নির্ধারিত সার্ভিস চার্জ ও অন্যান্য সরকারি ফি প্রদান করতে হয়। বোর্ডের হিসাব অনুযায়ী, শিক্ষার্থীপ্রতি এই নিশ্চায়ন ফির পরিমাণ সর্বমোট ৩৩৫ টাকা। এর নির্দিষ্ট খাতভিত্তিক বিন্যাস হলো— অনলাইন রেজিস্ট্রেশন ফি ১৪২ টাকা, ক্রীড়া ফি ৫০ টাকা, রোভার বা রেঞ্জার ফি ১৫ টাকা, রেড ক্রিসেন্ট ফি ১৬ টাকা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফি ৭ টাকা এবং বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) ফি ৫ টাকা। একই সাথে শিক্ষক কল্যাণ তহবিল এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর সুবিধা ভাতা ফি বাবদ ১০০ টাকা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ভর্তির প্রাথমিক সিলেকশন নিশ্চিত করতে এই মোট ৩৩৫ টাকা নির্দিষ্ট বোর্ডের অনলাইন সিস্টেমের মাধ্যমে পরিশোধ করা বাধ্যতামূলক।
একাদশ শ্রেণির ভর্তি ফি ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি সম্পর্কিত বিষয়ে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান জানান, ভর্তি নীতিমালায় কোনো আকস্মিক পরিবর্তন আনা হচ্ছে না। শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ কমাতে এবং পুরো প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ রাখতে বিগত বছরের অভিজ্ঞতা অনুসরণ করা হচ্ছে। ফি কাঠামোর বিষয়ে তিনি নিশ্চিত করেন যে, ভর্তি ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক খরচের হিসাব আগের নিয়মেই সুনির্দিষ্ট থাকবে। ফলাফল প্রকাশের পূর্বেই কিংবা ফল প্রকাশের সাথে সাথে ভর্তির পূর্ণাঙ্গ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে, যাতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকগণ আগাম সচেতন হয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে পারেন।
শিক্ষা বোর্ডের অণুশাসন অনুযায়ী, নীতিমালায় বর্ণিত সর্বোচ্চ ফি-র চেয়ে অতিরিক্ত এক টাকাও আদায় করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। বিশেষ করে কোনো কলেজ যদি উন্নয়ন ফি বা অন্য কোনো ভুয়া অজুহাতে বাড়তি অর্থ দাবি করে, তবে সংশ্লিষ্ট বোর্ডের মাধ্যমে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি রয়েছে। এছাড়া অস্বচ্ছল, প্রথাবিরোধী মেধাবী এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা যেন টাকার অভাবে থমকে না যায়, সেজন্য প্রতিষ্ঠানসমূহকে যথা সম্ভব ফি মওকুফের ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। ফলে মেধা ও পছন্দের ক্রমানুসারে শিক্ষার্থীরা সঠিক খরচে তাদের উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করার সুযোগ পাবে।


