জাতীয় ডেস্ক
দেশের প্রান্তিক পর্যায়ে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন এবং সামগ্রিক জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে তিন গ্রামে ‘এসডিজি ভিলেজ’ নামে একটি পাইলট প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। সোমবার দুপুর ১২টায় রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে এই বিশেষ উদ্যোগের সূচনা ঘোষণা করেন।
‘দেশের টেকসই উন্নয়নে অর্থনৈতিক কৌশল পুনর্নির্ধারণ’ শীর্ষক বৃহৎ প্রকল্পের অধীনে এই পাইলট কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। নতুন এই উদ্যোগের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে উন্নয়ন ত্বরান্বিত করে জাতিসংঘের ঘোষিত ১৭টি এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা সফলভাবে বাস্তবায়ন করা মূল উদ্দেশ্য। প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের ভিন্ন তিনটি ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক গুরুত্বসম্পন্ন অঞ্চলের তিনটি গ্রামকে এই প্রকল্পের আওতাভুক্ত করা হয়েছে। নির্বাচিত গ্রামগুলো হলো রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার মিতিঙ্গাছড়ি, খুলনার দাকোপ উপজেলার পানখালী এবং দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার নাফানগর।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রকল্পের প্রেক্ষাপট ও রূপরেখা তুলে ধরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, গ্রামীণ অর্থনীতি পুনর্গঠন এবং টেকসই বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে এই মডেল গ্রামগুলো একটি পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করবে। প্রকল্পের প্রাথমিক পর্যায়ে চিহ্নিত গ্রামগুলোর অতিব প্রয়োজনীয় নাগরিক সমস্যাসমূহ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধান করা হবে। যার মধ্যে অন্যতম হলো পর্যায়ক্রমে দারিদ্র্য নিরসন, কৃষিখাতে বিদ্যমান জলাবদ্ধতা দূরীকরণ এবং টেকসই জমি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন। এ ছাড়া মানসম্মত প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা নিশ্চিতকরণ, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার মান বৃদ্ধি এবং মাতৃ ও শিশুমৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার লক্ষ্যে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
একই সঙ্গে সুপেয় পানি নিশ্চিত করা এবং আধুনিক মানসম্পন্ন স্যানিটেশন ব্যবস্থার সম্প্রসারণ ঘটানো এই প্রকল্পের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞগণের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী জোরদার করার ক্ষেত্রে এই তিন এলাকার ভৌগোলিক অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পার্বত্য অঞ্চল হিসেবে মিতিঙ্গাছড়ি, উপকূলীয় চরাঞ্চলীয় এলাকা হিসেবে পানখালী এবং বরেন্দ্র পরিবেশপ্রধান অঞ্চল হিসেবে নাফানগরের উন্নয়ন মডেল সফল হলে পরবর্তীতে তা সারা দেশের অন্যান্য গ্রামেও বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে সরকারি নীতি-নির্ধারক ও উন্নয়ন বিশেষজ্ঞরা মতপ্রকাশ করেন যে, কেবল জাতীয় পর্যায়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনই যথেষ্ট নয়, বরং তার সুফল প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছানো অপরিহার্য। এই পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে স্থানীয় সরকারব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করা সম্ভব হবে, যা রূপকল্প বাস্তবায়নে গতি আনবে। সরকারি পর্যায় থেকে সঠিক অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং সম্পদ সরবরাহের মাধ্যমে প্রকল্পটিকে একটি সফল রূপরেখায় নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করা হয়।
প্রকল্পের সূচনায় ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষও। রাঙামাটির দূরবর্তী মিতিঙ্গাছড়ি এলাকার সাধারণ অধিবাসীদের বক্তব্য অনুয়াযী, দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলের একটি গ্রামকে এই বৈশ্বিক লক্ষ্যমাত্রার অংশ হিসেবে বেছে নেওয়ায় এলাকার অবহেলিত অবকাঠামো ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দ্রুত আমূল পরিবর্তন আসবে। উপকূলীয় পানখালী ও উত্তরাঞ্চলের নাফানগর গ্রামের বাসিন্দারাও মনে করছেন, এ উদ্যোগের মাধ্যমে তাদের দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান সুপেয় পানির সংকট এবং কৃষি জমির সেচ ও নিষ্কাশন সমস্যার চিরস্থায়ী সমাধান মিলবে। সর্বসাকুল্যে, প্রকল্পটিকে বাংলাদেশজুড়ে টেকসই গ্রামীণ রূপান্তরের একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।


