আইন ও বিচার সংক্রান্ত ডেস্ক
ভোররাতে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন জামালপুর জেলা আদালতের সিভিল জজ ও ১৭তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস)-এর সদস্য এ কে এম সামিউল হক। ঢাকা থেকে জামালপুরে কর্মস্থলে ফেরার পথে টাঙ্গাইল-জামালপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের লাহিড়ীকান্দা এলাকায় তাকে বহনকারী প্রাইভেটকারটির সঙ্গে একটি বিপরীতগামী ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় গাড়িটি মারাত্মকভাবে দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই ওই তরুণ বিচারক শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে শোকসংবাদের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বিচারক সামিউল হকের অকাল ও মর্মান্তিক প্রয়াণে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে।
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এক শোকবার্তায় প্রয়াত বিচারকের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। তিনি বলেন, এ কে এম সামিউল হক ছিলেন বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের একজন অত্যন্ত মেধাবী ও সম্ভাবনাময় তরুণ কর্মকর্তা। বিচার বিভাগে তার মতো একজন প্রতিশ্রুতিশীল বিচারকের এভাবে হঠাৎ চলে যাওয়া বিচার ব্যবস্থার জন্য একটি অপূরণীয় ক্ষতি। মন্ত্রী মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার যেন এই কঠিন শোক সহ্য করতে পারে—সেজন্য সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
প্রয়াত বিচারক এ কে এম সামিউল হকের নিজ বাড়ি নেত্রকোণা জেলায়। তিনি ১৭তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পরীক্ষার মাধ্যমে কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়ে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে আইন ও বিচার বিভাগে সহকারী জজ হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে পদায়ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তিনি জামালপুর জেলা আদালতে সিভিল জজ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। কর্মক্ষেত্রে অত্যন্ত নিষ্ঠাবান ও ন্যায়পরায়ণ কর্মকর্তা হিসেবে সংক্ষিপ্ত সময়েই তিনি বিচার বিভাগে নিজের দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছিলেন।
হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে দুর্ঘটনাটি ঘটে। ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা প্রাইভেটকারটি লাহিড়ীকান্দা পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি মালবাহী ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। বিকট শব্দ শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং পুলিশকে খবর দেন। পরবর্তীতে হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল এসে দুর্ঘটনাকবলিত যানটি থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে। দুর্ঘটনার পর কিছু সময়ের জন্য ওই সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হলেও পুলিশি পদক্ষেপে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
দুর্ঘটনার পর ঘাতক ট্রাকটিকে চিহ্নিত করার কাজ শুরু করেছে পুলিশ। উদ্ধার করা মরদেহ ময়নাতদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করার প্রস্তুতি চলছে। এই উদীয়মান কর্মকর্তার আকস্মিক প্রয়াণে বিচার বিভাগ, সহকর্মী বিচারকবৃন্দ এবং তার নিজ জেলা নেত্রকোণায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আইন অঙ্গনের বিশেষজ্ঞ ও সহকর্মীরা একে বিচার বিভাগের জন্য একটি বড় শূন্যতা হিসেবে অভিহিত করেছেন।


