অপরাধ ডেস্ক
রাজধানী ঢাকাজুড়ে পুলিশ পরিচালনা করে ২৪ ঘণ্টার এক বিশেষ ও নিয়মিত অভিযানে মোট ৪৮২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই সময়ে মহানগরের বিভিন্ন থানায় ৪৮টি নতুন মামলা দায়ের করা হয়। অভিযানে অপরাধীদের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র, দেশীয় অস্ত্র, বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য এবং অবৈধ সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। রাজধানীজুড়ে অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে এ সাঁড়াশি অভিযান চালানো হয়।
ডিএমপির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের আটটি বিভাগসহ গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট এ অভিযান পরিচালনা করে। উদ্ধারকৃত সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে একটি পিস্তল, একটি রিভলভার, একটি ম্যাগাজিন, ছয় রাউন্ড গুলি এবং ১২টি হাসুয়াসহ বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র। এছাড়া উদ্ধার করা অস্ত্রের তালিকায় একটি চাকু, একটি বেসবল ব্যাট, একটি ডাসা, একটি ছোরা ও একটি কাটার রয়েছে। অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও তিনটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে।
অভিযানে উদ্ধার হওয়া মাদকের মধ্যে রয়েছে ৭,৬৯৯ পিস ইয়াবা, ৬৫ কেজি ৫০০ গ্রাম গাঁজা, ৯টি ইনজেকশন এবং ২২ লিটার ৫০০ মিলিলিটার বিদেশি মদ। এছাড়া মাদক বিক্রির নগদ ২ লাখ ৯০ হাজার টাকা এবং মাদক ব্যবসার কাজে ব্যবহৃত ১৫৭টি সিম কার্ড, পাঁচটি মোবাইল ফোন ও আনুমানিক ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা মূল্যের চারটি মিউজিক সিস্টেম উদ্ধার করে পুলিশ।
ডিএমপির আটটি অপরাধ বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক অপরাধী গ্রেপ্তার হয়েছে মিরপুর বিভাগ এলাকায়। এলাকাভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মিরপুর বিভাগে সর্বোচ্চ ১১৪ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। অন্যান্য বিভাগের মধ্যে মতিঝিল বিভাগে ৮৭ জন, তেজগাঁও বিভাগে ৬৭ জন, ওয়ারী বিভাগে ৬৪ জন এবং উত্তরা বিভাগে ৫০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া রমনা বিভাগে ৩৪ জন, গুলশান বিভাগে ৩৩ জন, লালবাগ বিভাগে ২৪ জন, গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) ৮ জন এবং কাউন্টার টেররিজম বিভাগ (সিটিটিসি) ১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) নিয়াজ মেহেদী জানান, রাজধানীজুড়ে আইনশৃঙ্খলার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং অপরাধ চক্রের তৎপরতা নস্যাৎ করতে নিয়মিত এই তল্লাশি ও অভিযান চালানো হচ্ছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে স্ব স্ব থানায় মামলা দায়েরপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পুলিশ জানায়, মাদকের বিস্তার রোধ ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার নিশ্চিত করতে ঢাকা মহানগরে এই ধরনের ধারাবাহিক অভিযান অব্যাহত থাকবে।


