রাজধানীতে ডিএমপির একযোগে অভিযান: ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ৪৮৪, মামলা ৫৮

রাজধানীতে ডিএমপির একযোগে অভিযান: ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ৪৮৪, মামলা ৫৮

অপরাধ ডেস্ক
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কর্তৃক পরিচালিত গত ২৪ ঘণ্টার এক বিশেষ ও নিয়মিত অভিযানে রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে ৪৮৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঢাকা মহানগরীর শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা, সামাজিক অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং মাদকবিরোধী এই সাঁড়াশি অভিযানে পুলিশ বিভিন্ন প্রকার অবৈধ মাদকদ্রব্য ও অপরাধমূলক কাজে ব্যবহৃত আলামত উদ্ধার করেছে। এই অভিযান পরিচালনাকালে গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানাগুলোতে মোট ৫৮টি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্র জানায়, মহানগরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং অপরাধমূলক কার্যক্রম প্রতিহত করতে ডিএমপির বিভিন্ন বিভাগ এই সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করে। উদ্ধারকৃত মাদকের মধ্যে রয়েছে ৬ কেজি ২০০ গ্রাম গাঁজা, ৬ হাজার ৯৫৬ পিস ইয়াবা এবং ৩০ বোতল নিষিদ্ধ এস্কাফ বা ফেন্সিডিল সিরাপ। মাদক ছাড়াও অপরাধীদের হেফাজত থেকে ১টি মোটরসাইকেল, ৫টি মোবাইল ফোন, ককটেল সদৃশ ৫টি বস্তু, ৬টি ফয়েল পেপার, ২টি গ্যাস লাইট এবং নগদ ২ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। এসব উদ্ধারকৃত মালামাল বিভিন্ন ধরনের অসামাজিক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের জন্য জমা করা হয়েছিল বলে পুলিশ ধারণা করছে।
ডিএমপির আওতাধীন আটটি প্রশাসনিক বিভাগ, গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) এবং কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট এই অভিযানে অংশ নেয়। প্রাপ্ত পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি গ্রেফতারের ঘটনা ঘটেছে মিরপুর বিভাগে, যেখানে পুলিশ ১২৪ জনকে গ্রেফতার করে। এছাড়া ওয়ারী বিভাগে ৭১ জন, মতিঝিল বিভাগে ৫৬ জন, গুলশান বিভাগে ৫৫ জন, তেজগাঁও বিভাগে ৫০ জন, উত্তরা বিভাগে ৪৮ জন, রমনা বিভাগে ৪৩ জন এবং লালবাগ বিভাগে ৩৩ জনকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা নিজ হেফাজতে নেয়। বিশেষায়িত ইউনিটের মধ্যে গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) ৩ জন এবং কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট ১ জনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় বিদ্যমান আইনে মামলা ও যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। উদ্ধার করা আলামত জব্দ করে আদালতে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া করা হচ্ছে এবং অভিযুক্তদের জামিন বা জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বিচারক।
রাজধানীতে ক্রমাগত অপরাধ বৃদ্ধি ও মাদক চক্রের বিস্তৃতি রোধে নগর পুলিশের এমন ধারাবাহিক ও বড় ধরনের পদক্ষেপকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। নিয়মিত এসব কঠোর অভিযানের ফলে শহরের চিহ্নিত অপরাধীদের তৎপরতা কমে আসার পাশাপাশি সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিমত। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ও অপরাধীদের দৌরাত্ম্য রুখতে মহানগরের প্রতিটি অঞ্চলে এই ধরনের গোয়েন্দা নজরদারি ও প্রতিরোধমূলক অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে বলে ডিএমপির বিজ্ঞপ্তিতে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
আইন আদালত শীর্ষ সংবাদ