জাতীয় ডেস্ক
১৪৪৮ হিজরি সনের পবিত্র রবিউল আউয়াল মাসের চাঁদ দেখা এবং পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)-এর তারিখ নির্ধারণের লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় জরুরি সভায় বসছে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি। রাজধানীর ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মুকাররম সভাকক্ষে সন্ধ্যা ৭টায় এই পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় সভাপতিত্ব করবেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ।
হিজরি বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী রবিউল আউয়াল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি মাস। প্রতি বছর ১২ রবিউল আউয়াল বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম ও ওফাত দিবস হিসেবে সারা দেশে গভীর ভাবগাম্ভীর্য ও ধর্মীয় মর্যাদার মধ্য দিয়ে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালিত হয়। এ দিনটিতে দেশের সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিশেষ আলোচনা সভা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে থাকে। দিবসটি উপলক্ষে সারা দেশে সরকারি ছুটিও বহাল থাকে। তাই চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করেই মূলত নির্ধারণ করা হবে এ বছরের ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)-এর আনুষ্ঠানিক তারিখ।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশের যেকোনো প্রান্তে রবিউল আউয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেলে তা তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় প্রশাসন বা নির্দিষ্ট কিছু মাধ্যমে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। বাংলাদেশের আকাশে কোথাও চাঁদ দেখা গেলে সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি) অথবা উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে (ইউএনও) অবহিত করার জন্য দেশের ধর্মপ্রাণ নাগরিকদের অনুরোধ করা হচ্ছে।
এ ছাড়া সরাসরি জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটিকে তথ্য জানানোর সুবিধার্থে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে টেলিফোন ও ফ্যাক্স নম্বর প্রদান করা হয়েছে। যেকোনো নাগরিক নিচের টেলিফোন নম্বরগুলোতে যোগাযোগ করে চাঁদ সংক্রান্ত তথ্য নিশ্চিত করতে পারবেন: ০২-২২৩৩৮৯৪৪০, ০২-২২৩৩৮৯৪৫৮, ০২-২২৩৩৮৯৪৫৯, ০২-৯৫৫৯৪৯৩, ০২-৯৫৫৯৬৪৩ ও ০২-৯৫৫৫৯৪৭। টেলিফোনের পাশাপাশি ফ্যাক্স নম্বরগুলোতেও (০২-২২৩৩৮৩৩৯৭ ও ০২-৯৫৬৩৩৯৭) তথ্য পাঠানো যাবে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার নির্ধারিত সভায় দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রাপ্ত তথ্য, আবহাওয়া দপ্তরের প্রতিবেদন এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের পর্যবেক্ষণ সমন্বয় করে চাঁদ দেখার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করবেন ধর্মমন্ত্রী। যদি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রবিউল আউয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়, তবে শুক্রবার থেকে শুরু হবে নতুন মাস এবং সেই হিসেবে নির্দিষ্ট দিনে উদযাপিত হবে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)। অন্যথায়, সফর মাসের ৩০ দিন পূর্ণ করে পরবর্তী দিন থেকে নতুন মাস গণনা শুরু হবে। জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সিদ্ধান্তের পরপরই রাষ্ট্রীয়ভাবে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)-এর আনুষ্ঠানিক তারিখ ঘোষণা করা হবে।


