রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কোনো আইনি বাধা নেই: অ্যাটর্নি জেনারেল

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কোনো আইনি বাধা নেই: অ্যাটর্নি জেনারেল

জাতীয় ডেস্ক
আগামীকাল বৃহস্পতিবার নির্ধারিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠানে কোনো ধরনের আইনি বাধা নেই বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, প্রক্রিয়াটি নির্ধারিত নিয়ম মেনেই নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হবে।
বুধবার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অ্যাটর্নি জেনারেল এই মন্তব্য করেন। তিনি জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে আইনগত যে জটিলতা তৈরির চেষ্টা করা হয়েছিল, আদালতের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তার কোনো কার্যকারিতা থাকেনি। ফলে নির্বাচন আয়োজনে সাংবিধানিক বা আইনি কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই।
এদিকে সংবিধানের বহুল আলোচিত ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা চ্যালেঞ্জ এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ঘোষিত তফসিল স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে দায়ের করা রিট খারিজের আদেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আবেদন দায়ের করা হয়েছে। আবেদনকারী আইনজীবী মো. ইউনুছ আলী আকন্দ আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই আবেদন জমা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল স্থগিতের আবেদন জানিয়ে দায়ের করা রিট সরাসরি খারিজ করে দেন। বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।
উক্ত শুনানিতে রিট আবেদনকারী আইনজীবী মো. ইউনুছ আলী আকন্দ নিজেই শুনানি পরিচালনা করেন। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষকে সহায়তা করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মামুন চৌধুরী এবং আখতার হোসেন মো. আব্দুল ওয়াহাব। রাষ্ট্রপক্ষ যুক্তি উপস্থাপন করে যে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রক্রিয়া সাংবিধানিক বিধিমালার অধীনে পরিচালিত হচ্ছে এবং তফসিল স্থগিত করার মতো কোনো আইনি ভিত্তি রিট আবেদনে প্রদর্শিত হয়নি।
রিট আবেদনকারীর যুক্তি ছিল, বাংলাদেশের সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংসদ সদস্যদের স্বাধীন ভোটাধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা তৈরি করে। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী, কোনো নির্বাচনে রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরূপে মনোনীত হয়ে কোনো ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে তিনি যদি ওই দল থেকে পদত্যাগ করেন অথবা সংসদে দলের বিপক্ষে ভোট প্রদান করেন, তবে সংসদে তার আসন শূন্য হবে। আবেদনকারীর দাবি, এই বিধানের কারণে সংসদ সদস্যরা দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন না, যা সংসদীয় গণতন্ত্রের মূল চেতনার পরিপন্থী এবং সদস্যদের নিজস্ব গণতান্ত্রিক অধিকারকে ব্যাহত করে।
তবে রাষ্ট্রপক্ষের অবস্থান ছিল, সংবিধানের যে কোনো বিধানের প্রয়োগ ও ধারাবাহিকতা সাংবিধানিক কাঠামোর অংশ এবং একটি চলমান নির্বাচনী তফসিল স্থগিতের ক্ষেত্রে রিটের মাধ্যমে হস্তক্ষেপের সুযোগ সীমিত। হাইকোর্ট উভয় পক্ষের যুক্তি বিবেচনা করে রিটটি সরাসরি খারিজ করে দিলে নির্বাচন আয়োজনের পথ সম্পূর্ণ উন্মুক্ত হয়।
হাইকোর্টের খারিজ আদেশের পর আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ তাৎক্ষণিকভাবে আপিল বিভাগে গেলেও অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, আপিল বিভাগে কোনো স্থগিতাদেশ না থাকায় পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী নির্বাচন সম্পন্ন করতে নির্বাচন কমিশনের ওপর কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা বা নিষেধাজ্ঞা কার্যকর নেই। ফলে সাংবিধানিক রীতি মেনে নির্ধারিত সময়েই এই প্রক্রিয়া পরিচালিত হতে যাচ্ছে।
আইন আদালত শীর্ষ সংবাদ