আইন ও আদালত ডেস্ক
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা চ্যালেঞ্জ এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ঘোষিত তফসিল স্থগিত চেয়ে দায়ের করা রিট আবেদন খারিজের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আবেদন করা হয়েছে। হাইকোর্টের খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে বুধবার (১৯ আগস্ট) আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই লিভ টু আপিল দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. ইউনুছ আলী আকন্দ।
এর আগে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানি শেষে রিট আবেদনটি সরাসরি খারিজ করে আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল এবং সহকারী আইন কর্মকর্তারা। শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল রিটের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তা খারিজের আর্জি জানান। অন্যদিকে রিটকারী আইনজীবী নিজে শুনানি করে যুক্তি উপস্থাপন করেন।
হাইকোর্টের আদেশে উল্লেখ করা হয়, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার জাতীয় সংসদের এবং সংবিধান সংস্কারের লক্ষ্যে ইতিমধ্যে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। হাইকোর্টের এ আদেশের ফলে নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠানে আইনি কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছিলেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা। তবে রিটকারী আইনজীবী আজ আদেশের বিরুদ্ধে দ্রুত শুনানির আর্জি জানিয়ে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন দাখিল করেন।
ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। দীর্ঘ বিরতির পর এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর পক্ষে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং ১১ দলীয় জোটের পক্ষে ড. অলি আহমদ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ১৯৯১ সালে সংসদীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের পর এবারই প্রথম সংসদ সদস্যদের সরাসরি গোপন ব্যালটে ভোটদানের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে।
রিট আবেদনের মূল বিষয়বস্তু সংবিধানের বহুল আলোচিত ৭০ অনুচ্ছেদ। বাংলাদেশের সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হয়ে কোনো ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর যদি তিনি উক্ত দল হতে পদত্যাগ করেন অথবা সংসদে উক্ত দলের বিপক্ষে ভোটদান করেন, তবে সংসদে তাঁর আসন শূন্য হবে।
রিটকারী আইনজীবী আবেদনে দাবি করেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে সংসদ সদস্যরা তাঁদের স্বাধীন ও বিবেকসম্মত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন না। এটি আইনপ্রণেতাদের স্বাধীন মতপ্রকাশের সাংবিধানিক অধিকারকে সীমিত করে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে। বিশেষ করে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ায় সংসদ সদস্যরা যাতে দলের নির্দেশনার বাইরে গিয়ে গোপন ব্যালটে স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারেন, সেই নিশ্চয়তা চেয়ে ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা বাতিল ও নির্বাচন স্থগিতের আরজি জানানো হয়।
আইন ও বিচার বিশ্লেষকদের মতে, আপিল বিভাগে এই আবেদনের পরিণতি দেশের সাংবিধানিক চর্চা ও সংসদীয় রাজনীতির জন্য তাৎপর্যপূর্ণ। যদি আপিল বিভাগ হাইকোর্টের আদেশ বহাল রাখে, তবে পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী সংসদ সদস্যরা নির্বাচনে অংশ নেবেন। অন্যদিকে আদালত কোনো প্রকার স্থগিতাদেশ বা অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনা দিলে নির্বাচনী কার্যক্রমে আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে। বিস্তারিত তথ্যের জন্য প্রথম আলো-এর প্রতিবেদন ও The Daily Star বাংলা-এর আদালতের খবর দেখে নেওয়া যেতে পারে। চেম্বার আদালতে আজই এ আবেদনের ওপর শুনানি হতে পারে বলে জানা গেছে।


