তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
দেশের বিপুলসংখ্যক ফিচার ফোন ব্যবহারকারীকে ডিজিটাল নেটওয়ার্কের আওতায় নিয়ে আসতে সাশ্রয়ী মূল্যে ডেটা-নির্ভর স্মার্টফোন সরবরাহের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত এসব স্মার্টফোনের দাম ৫০ থেকে ৬০ ডলারের মধ্যে রাখার পরিকল্পনা চলছে। এই উদ্যোগ সফল হলে দেশের প্রায় অর্ধেক মোবাইল গ্রাহক, যাঁরা বর্তমানে কেবল ভয়েস সেবাভিত্তিক ফিচার ফোন ব্যবহার করছেন, তাঁরা আধুনিক ইন্টারনেট ও ডিজিটাল সেবার সুবিধা গ্রহণ করতে সক্ষম হবেন।
বুধবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে আয়োজিত ‘পাওয়ারিং দ্য ফিউচার: রবি কমপ্লিটস ঢাকা মডার্নাইজেশন’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এ তথ্য জানান। অনুষ্ঠানে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী, রবি আজিয়াটার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াদ সাতারা এবং প্রধান করপোরেট ও নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা শাহেদ আলম উপস্থিত ছিলেন।
উপদেষ্টা তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, দেশে মোট মোবাইল সংযোগের সংখ্যা প্রায় ১৪ কোটি হলেও এর প্রায় ৫০ শতাংশ অর্থাৎ ৭ কোটি গ্রাহক এখনো সনাতন পদ্ধতির ফিচার ফোন ব্যবহার করছেন। প্রযুক্তিগত রূপান্তরের বর্তমান যুগে এই পরিস্থিতির পরিবর্তন অত্যন্ত জরুরি। উচ্চগতির ডেটা নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে উপযোগী ডিভাইস নিশ্চিত করা না গেলে ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তির সার্বিক সুফল অর্জন সম্ভব নয়। ডেটা ও আধুনিক সংযোগ ব্যবস্থার ওপরই টেলিযোগাযোগ খাতের টেকসই ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
দেশে স্মার্টফোনের উৎপাদন খরচ কমিয়ে আনতে সরকারের নেওয়া নীতিগত সহায়তার কথা তুলে ধরে উপদেষ্টা জানান, বাজেটের পূর্বে স্থানীয় হ্যান্ডসেট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ও খাতসংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর সঙ্গে বিশদ আলোচনা করা হয়েছে। পূর্বে মোবাইল উৎপাদনের কাঁচামাল আমদানিতে যেখানে ২৬ থেকে ৩৩ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক, ভ্যাট ও কর আরোপিত ছিল, তা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস করা হয়েছে। ক্ষেত্রবিশেষে এই করহার শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা হয়েছে এবং কিছু কাঁচামালের ওপর মাত্র ২ থেকে ৫ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। নীতিগত এই সুবিধার ফলে স্থানীয় পর্যায়ে ৫০ থেকে ৬০ ডলারের মধ্যে উন্নত অ্যান্ড্রয়েড ডেটা স্মার্টফোন উৎপাদন সম্ভব হবে বলে নির্মাতারা আশ্বস্ত করেছেন।
সাশ্রয়ী মূল্যের পাশাপাশি প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে স্মার্টফোন আরও সহজলভ্য করতে আর্থিক সুবিধার ওপরও জোর দিচ্ছে সরকার। রেহান আসিফ জানান, স্মার্টফোন কেনাকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ইকুয়েটেড মান্থলি ইনস্টলমেন্ট (ইএমআই) কাঠামোর আওতায় আনা এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে সহজ শর্তে কিস্তি সুবিধা প্রদানে উৎসাহিত করার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। সরকারের এই নীতিগত পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো তৃণমূল পর্যায়ে ডেটা ডিভাইসের ব্যবহার বৃদ্ধি করা।
টেলিযোগাযোগ খাতের সামগ্রিক উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একক কোনো সংস্থা বা অপারেটরের পক্ষে পুরো খাতের টেকসই রূপান্তর সম্ভব নয়। সরকার, বিটিআরসি, মোবাইল অপারেটর ও শিল্প সংগঠনগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমেই নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে হবে। বিগত ছয় মাসে খাতসংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনার মাধ্যমে একটি অভিন্ন কৌশলগত রূপরেখা প্রণয়নের চেষ্টা চলছে বলেও তিনি জানান।
অনুষ্ঠানে মোবাইল নেটওয়ার্ক আধুনিকায়ন নিয়ে অপারেটর রবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, বৃহত্তর ঢাকার গাজীপুর, সাভার, মানিকগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জসহ সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে ৪ হাজার ৮০০টিরও বেশি সাইট আধুনিকায়ন করা হয়েছে। নতুন প্রজন্মের ‘গিগা গ্রিন ৪জি/৫জি রেডি’ প্রযুক্তির সরঞ্জাম ব্যবহারের মাধ্যমে নেটওয়ার্কের সক্ষমতা ভবিষ্যৎমুখী ও পরিবেশবান্ধব করা হয়েছে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে গ্রাহক সেবার মান সর্বোচ্চ ১২৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে, কল ড্রপের হার ২০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে এবং ইনডোর নেটওয়ার্ক কভারেজ আগের তুলনায় তিন গুণ উন্নত হয়েছে। পাশাপাশি প্রতি গিগাবাইট ডেটা পরিবহনে বিদ্যুৎ ব্যবহারের খরচ ২০ শতাংশ সাশ্রয় হয়েছে।


