জাতীয় প্রশাসনে রদবদল: রাজশাহী ও তিন জেলায় নতুন ডিসি এবং বিভাগীয় কমিশনার নিয়োগ

জাতীয় প্রশাসনে রদবদল: রাজশাহী ও তিন জেলায় নতুন ডিসি এবং বিভাগীয় কমিশনার নিয়োগ

জাতীয় ডেস্ক
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক এক প্রজ্ঞাপনে দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদসমূহে বড় ধরনের রদবদল আনা হয়েছে। রাজশাহী বিভাগের নতুন বিভাগীয় কমিশনার এবং নাটোর, গাইবান্ধা ও রংপুর জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদে নতুন কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সরকারের প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতিশীলতা আনা এবং মাঠপর্যায়ে সেবার মান আরও জোরদার করার লক্ষ্যেই এই পদায়ন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রাজশাহী বিভাগের নতুন বিভাগীয় কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের সদস্য-পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. ইউসুফ আলী। এর আগে এই পদে দায়িত্ব পালনকারী ড. এ এন এম বজলুর রিসিভকে গত মঙ্গলবার রাতে পরবর্তী পদায়নের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছিল। বিভাগীয় কমিশনার পদটি আঞ্চলিক প্রশাসনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই পদের মাধ্যমেই মূলত মাঠপ্রশাসনের বিভিন্ন বিভাগের কার্যক্রম তদারকি ও সমন্বয় করা হয়।
এদিকে, দেশের উত্তরাঞ্চলের তিন জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নাটোর জেলার নতুন জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের উপসচিব মোছা. সুমনী আক্তার। অন্যদিকে, গাইবান্ধা জেলার নতুন জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রীর একান্ত সচিব ড. মো. মনিরুজ্জামান। এছাড়া, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ইসরাত জাহানকে রংপুরের নতুন জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে মাঠপর্যায়ে প্রশাসনিক গতিশীলতা বজায় রাখার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নাটোরের তৎকালীন ডিসি আসমা শাহীন, গাইবান্ধার ডিসি মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা এবং রংপুরের ডিসি মোহাম্মদ রুহুল আমিনকে স্ব স্ব জেলা থেকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়। সাধারণত মাঠ প্রশাসনের রুটিন বদলির অংশ হিসেবেই এই কর্মকর্তাদের প্রত্যাহার করে নতুন কর্মকর্তাদের দায়িত্ব প্রদান করা হয়ে থাকে।
প্রশাসনিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই কর্মকর্তাদের পদায়নের ফলে সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোর সার্বিক প্রশাসনিক কার্যক্রমে নতুন গতি আসবে। বিশেষ করে জেলাপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, জনসেবা নিশ্চিতকরণ এবং সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড সঠিক ও সময়মতো বাস্তবায়নে নতুন ডিসিগণের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে। মাঠপর্যায়ে জনদুর্ভোগ কমানো এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নবাগত ডিসিরা তাদের অভিজ্ঞতা ও কর্মদক্ষতা প্রয়োগ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
সরকারের এই সিদ্ধান্ত প্রশাসনিক সংস্কার ও কাজের স্বচ্ছতা বাড়ানোর একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা শিগগিরই স্ব স্ব কর্মস্থলে যোগ দিয়ে তাদের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করবেন বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।
জাতীয় শীর্ষ সংবাদ