নাটোরের বড়াইগ্রামে ১১ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে

নাটোরের বড়াইগ্রামে ১১ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে

জাতীয় ডেস্ক
নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলায় জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম এবং নতুন ৩৩ কেভি সঞ্চালন লাইন স্থাপনের লক্ষ্যে আগামী বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) টানা ১১ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ফলে জনজীবন ও স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সাময়িক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বুধবার এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রক্ষণাবেক্ষণ কাজের সুবিধার্থে বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত মোট ১১ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ স্থগিত রাখা হবে। এ সময় বড়াইগ্রাম-১ (বনপাড়া) উপকেন্দ্রের অধীনে থাকা ৬ ও ৭ নম্বর ফিডারের সম্পূর্ণ এলাকা এবং ৮ নম্বর ফিডারের আংশিক এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকবে।
বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকাকালীন এলাকাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—বনপাড়া ফজলিতলা, পার আহম্মেদপুর, আহম্মেদপুর বাজার, খৌদ্দকাচুটিয়া, বৃ-কাচুটিয়া, কেচুয়াকোড়া, বালিয়া, কলাকান্ত নগর, ধানুড়া, কায়েমকোলা, কুমরুল, রামাগাড়ি, কামারদহ, নওপাড়া, কালিকাপুর, আটঘরিয়া এবং বড়বড়িয়া।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ৩৩ কেভি নতুন লাইন সংযোগ প্রদানের মাধ্যমে সঞ্চালন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং গ্রিডের লোড সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এই দীর্ঘমেয়াদী বিদ্যুৎ বিভ্রাটের পরিকল্পনা করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকার ফলে এই এলাকাগুলোতে অবস্থিত ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রম বিঘ্নিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে বড়াইগ্রামের মতো বাণিজ্যিকভাবে ব্যস্ত এলাকায় দীর্ঘ ১১ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় দৈনন্দিন কাজ ও সেবামূলক কার্যক্রমে ধীরগতি আসতে পারে।
তবে নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের আগেই যদি কারিগরি কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়, তবে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট ফিডারগুলোতে পুনরায় বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা হবে। গ্রাহকদের এই অনাকাঙ্ক্ষিত সাময়িক ভোগান্তির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে সমিতি।
বিদ্যুৎ বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের মতে, আধুনিক ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা নিশ্চিত করার স্বার্থে এই ধরনের রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম অত্যন্ত জরুরি। ৩৩ কেভি লাইনের কাজ সম্পন্ন হলে ভবিষ্যতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় ভোল্টেজ জনিত সমস্যার সমাধান হবে এবং সামগ্রিক বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি পাবে।
গ্রাহকদের এ বিষয়ে ধৈর্য ধারণের অনুরোধ জানিয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জরুরি প্রয়োজনে বা বিদ্যুৎ সংক্রান্ত যে কোনো তথ্যের জন্য স্থানীয় পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের হটলাইন নম্বরে যোগাযোগ করা যেতে পারে। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকার এই সময়টিতে গ্রাহকদের নিজ নিজ বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম সতর্কতার সাথে ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। রক্ষণাবেক্ষণ কাজ শেষে সন্ধ্যা ৬টার পর বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে বলে বিদ্যুৎ সমিতি প্রত্যাশা করছে।
জাতীয় শীর্ষ সংবাদ