জাতীয় ডেস্ক
নিজস্ব প্রতিবেদক: সংবিধানের বহুল আলোচিত ৭০ অনুচ্ছেদে সংস্কার আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সংশোধিত এই বিধানের আলোকেই ভবিষ্যতে দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ তথ্য জানান। তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘ প্রায় সাড়ে তিন দশক পর দেশে সাংবিধানিকভাবে একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যেখানে বিরোধী দলের প্রার্থীও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অংশ নিচ্ছেন। গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থাকে সুসংহত ও কার্যকর রাখতে এ ধরনের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক প্রতিযোগিতা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং ভবিষ্যতেও এই গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত থাকা প্রয়োজন।
সংবিধান সংস্কার প্রক্রিয়ার অগ্রগতি সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, সংবিধান সংস্কারের লক্ষ্যে গঠিত সংশ্লিষ্ট কমিটিতে এখনো পর্যন্ত বিরোধী দল আনুষ্ঠানিকভাবে অংশ নেয়নি। তা সত্ত্বেও সরকার সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনার প্রক্রিয়া চলমান রেখেছে এবং নির্ধারিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন করা হবে। একই সাথে তিনি স্পষ্ট করেন যে, পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সংশোধিত ৭০ অনুচ্ছেদের কাঠামোর আওতাতেই সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বাংলাদেশের সংবিধানের বর্তমান ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো সংসদ সদস্য নিজ দলের বিপক্ষে ভোট দিলে কিংবা দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে তাঁর সংসদীয় আসন শূন্য হয়ে যায়। ফ্লোর ক্রসিং বা দলত্যাগের সুযোগ বন্ধ করার উদ্দেশ্যে প্রণীত এই বিধানটি দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক অঙ্গন এবং সাংবিধানিক আইন বিশেষজ্ঞদের মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। বিশেষ করে সংসদীয় গণতন্ত্রে সংসদ সদস্যদের ব্যক্তিগত মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদে নির্বাচনের ক্ষেত্রে এই অনুচ্ছেদের বাধ্যবাধকতা নিয়ে নানা বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক বিশ্লেষকদের মতে, ৭০ অনুচ্ছেদে ভারসাম্যপূর্ণ পরিবর্তন আনা হলে সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ তৈরি হবে। এর ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনসহ সংসদের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রণয়ন ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় সংসদীয় চর্চায় ইতিবাচক গতিশীলতা আসার সম্ভাবনা রয়েছে।


