জাতীয় ডেস্ক
সুযোগ পেলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আওয়ামী লীগের চেয়েও বড় স্বৈরাচারী বা ফ্যাসিস্ট রূপ ধারণ করবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। কুষ্টিয়ায় রাজনৈতিক সংঘর্ষে গুরুতর আহত দলীয় কর্মীকে দেখতে গিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, ক্ষমতার লোভে জামায়াত ও ইসলামী ছাত্রশিবির দেশজুড়ে সহিংসতা ও দখলের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গণঅধিকার পরিষদের আহত কর্মী সোহানুর রহমান সোহানকে দেখতে যান প্রতিমন্ত্রী। এ সময় তিনি আহত কর্মীর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং দায়িত্বরত চিকিৎসকদের সঙ্গে চিকিৎসার অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করেন। পরে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সংঘটিত সহিংসতার বিষয়ে কথা বলেন।
কুষ্টিয়ায় স্থানীয় জামায়াত সংসদ সদস্যের অনুসারীদের সঙ্গে গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনাকে ইঙ্গিত করে নুরুল হক নুর বলেন, মতবিরোধ ও রাজনৈতিক বক্তব্যের জেরে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক মহাদিসের পায়ের রগ কেটে দেওয়া হয়েছে এবং কলেজ সভাপতি সোহানের ওপর বেসবল ব্যাট দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। তিনি জানান, হামলায় সোহানের নাকের হাড় ভেঙে যাওয়ায় অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর ফ্যাসিবাদবিরোধী সকল পক্ষের মধ্যে একটি ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশা থাকলেও জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতার মোহে সরকারের বিরুদ্ধে ক্রমাগত অবস্থান নিচ্ছে। তিনি দাবি করেন, অতীত শাসনামলে মজলুম হিসেবে পরিচিত থাকলেও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে জামায়াত-শিবির বিভিন্ন স্থানে আক্রমণাত্মক আচরণ প্রদর্শন করছে।
নুরুল হক নুর একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের প্রসঙ্গ টেনে এনে বলেন, আওয়ামী লীগ যদি সাম্প্রতিক গণহত্যার কারণে নিষিদ্ধ হতে পারে, তবে একাত্তরের ভয়াবহ গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াতকেও রাজনৈতিকভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা উচিত। এ বিষয়ে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে ছাত্র আন্দোলনের নাম ভাঙিয়ে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, আদালত ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার, চাঁদাবাজি এবং বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী। জামায়াত-শিবিরকে কোনো ধরনের রাজনৈতিক ছাড় দেওয়া দেশের ভবিষ্যতের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে ধর্মীয় উগ্রবাদ ও সহিংসতার বিরুদ্ধে নাগরিকদের সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।


