জেলা প্রতিনিধি
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে নতুন কেনা মোটরসাইকেল চালিয়ে বাড়ি ফেরার পথে দ্রুতগতির একটি লরির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই তরুণ নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার খৈয়াছড়া ইউনিয়নের সৈদালী এলাকার জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল সড়কে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত দুই তরুণ হলেন—তালাত মাহমুদ ওরফে শুভ (১৯) এবং আবদুল্লাহ আল ওমর (১৯)। তাদের উভয়ের বাড়ি মিরসরাই উপজেলার মঘাদিয়া ইউনিয়নে। এর মধ্যে তালাত মাহমুদ ওই ইউনিয়নের মিয়াপাড়া এলাকার এবং আবদুল্লাহ আল ওমর ফকিরাপাড়া এলাকার বাসিন্দা। নিহত তালাত মাহমুদ স্থানীয় একটি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন এবং আবদুল্লাহ আল ওমর একটি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে অধ্যয়নরত ছিলেন। পড়াশোনার পাশাপাশি তারা দুজনই স্থানীয় আবুতোরাব বাজারের একটি ডায়াগনস্টিক ল্যাবে চাকরি করতেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতে তালাত মাহমুদ একটি নতুন মোটরসাইকেল কেনার উদ্দেশ্যে বন্ধু আবদুল্লাহ আল ওমরকে সঙ্গে নিয়ে মিরসরাইয়ের বারাইয়ারহাট বাজারে যান। বাজার থেকে একটি নতুন মোটরসাইকেল ক্রয় করার পর রাত সাড়ে ১১টার দিকে সেটি চালিয়ে তারা নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল সড়কের খৈয়াছড়া ইউনিয়নের সৈদালী এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগতির লরির সঙ্গে তাদের মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
সংঘর্ষের তীব্রতায় মোটরসাইকেলটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই তালাত মাহমুদের মৃত্যু হয়। অন্যদিকে গুরুতর আহত অবস্থায় আবদুল্লাহ আল ওমরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনিও মারা যান। দুর্ঘটনার পর ঘাতক লরিটির চালক গাড়ি ফেলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
নিহত তালাত মাহমুদের বড় ভাই ইমাম হোসেন ফরহাদ জানান, সড়কে ক্রমবর্ধমান দুর্ঘটনার ঝুঁকি বিবেচনায় পরিবার থেকে তালাতকে মোটরসাইকেল কিনতে নিষেধ করা হয়েছিল। পরিবারের অমতের কারণে সে বিষয়টি গোপন রেখে বন্ধু ওমরকে সঙ্গে নিয়ে গোপনে মোটরসাইকেল কিনতে গিয়েছিল। কিন্তু নতুন সেই বাহনটি নিয়ে বাড়ি ফেরার পথেই তাদের জীবন প্রদীপ নিভে গেল।
এ বিষয়ে মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদা ইয়াসমিন জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় দুই তরুণ মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর পরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধারসহ ঘটনার সার্বিক বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে। দুর্ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়া লরিচালককে আটকের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশের বিভিন্ন আঞ্চলিক ও মহাসড়কগুলোতে দ্রুতগতির ভারী যানবাহনের বেপরোয়া চলাচলের কারণে প্রায়শই এ ধরনের মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে মোটরসাইকেল ক্রয়ের প্রবণতা এবং ট্রাফিক আইন না মেনে অতিদ্রুতগতিতে যানবাহন চালানোর কারণে ঝরে পড়ছে বহু তাজা প্রাণ। সচেতন মহলের মতে, সড়ক দুর্ঘটনা রোধে চালকদের বেপরোয়া গতি নিয়ন্ত্রণ, ট্রাফিক আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং চালকদের উপযুক্ত লাইসেন্স ও প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতন করতে পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও জোরালো ভূমিকা পালন করতে হবে।


