মেধা ও নৈতিকতার ভিত্তিতে শিক্ষাব্যবস্থা পুনর্গঠন: ২০২৮ সালে আসছে নতুন কারিকুলাম

মেধা ও নৈতিকতার ভিত্তিতে শিক্ষাব্যবস্থা পুনর্গঠন: ২০২৮ সালে আসছে নতুন কারিকুলাম

জাতীয় ডেস্ক
আগামী ২০২৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে দেশের পুরো শিক্ষাক্রম নতুন করে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে শিক্ষাব্যবস্থাকে মেধা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের সমন্বয়ে পুনর্গঠন করা হচ্ছে। শিক্ষা খাতের সংস্কার ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে শিক্ষা সংস্কার কমিশন গঠনের বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। এর প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে আগামী শিক্ষাবর্ষের (২০২৭) পাঠ্যপুস্তকে প্রয়োজনীয় পরিমার্জন, সংযোজন ও বিয়োজন করা হচ্ছে।
সরকারের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। চতুর্থ শিল্পবিপ্লব, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পরিচিত করতে আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে নতুন বিষয় যুক্ত করা হচ্ছে। চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা ও শারীরিক শিক্ষাভিত্তিক ‘স্পোর্টস অ্যান্ড কালচার’ এবং ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ ও ‘টেকনিক্যাল এডুকেশন’ পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে। এর মাধ্যমে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রযুক্তিগত ও নৈতিক শিক্ষার ভিত্তি মজবুত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
পরীক্ষাপদ্ধতি ও মূল্যায়নে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনার বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। অতীতে কৃত্রিম উপায়ে ফলাফল দেখানোর সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ মূল্যায়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ফলাফল প্রদান করা হচ্ছে। পাশাপাশি, সদ্য প্রকাশিত এসএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য এবং ঝরে পড়ার ঝুঁকিতে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ নীতি প্রণয়ন করা হয়েছে। এই শিক্ষার্থীদের টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (টিটিসি) এবং স্বল্পমেয়াদি কারিগরি ও ভোকেশনাল কোর্সের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে তাদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে।
বেকারত্ব দূরীকরণ ও কর্মসংস্থান বাড়াতে দেশের বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে চাকরিপ্রার্থীরা নিজেদের দক্ষতার তথ্য নিবন্ধন করতে পারবেন এবং বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হবে। শিক্ষকদের ডিজিটাল দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য পর্যায়ক্রমে ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচির আওতায় দেশের সব পর্যায়ের শিক্ষকদের ট্যাবলেট দেওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণার সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সমস্যা সমাধানে যৌথ গবেষণার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া প্রবাসী বাংলাদেশি গবেষক ও শিক্ষকদের দেশে ফিরিয়ে এনে ‘ব্রেন ড্রেন’-কে ‘ব্রেন সার্কুলেশন’-এ রূপান্তরের রূপরেখা প্রস্তুত করা হয়েছে। সরকার কেবল সনদনির্ভর শিক্ষার পরিবর্তে দক্ষতাভিত্তিক, নৈতিক ও মানবিক প্রজন্ম গড়ে তুলতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ, যা নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
জাতীয় শীর্ষ সংবাদ