জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে নিউইয়র্ক যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে নিউইয়র্ক যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব পালনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক গেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। রবিবার দিনগত রাতে তিনি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
আগামী ৮ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে। এরপর ২২ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের ভাষণের মধ্য দিয়ে শুরু হবে অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্ক। এই পুরো সময়জুড়ে বিশ্ব সংস্থার এই মর্যাদাপূর্ণ বার্ষিক সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন ড. খলিলুর রহমান। দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা এই অধিবেশন সফলভাবে সম্পন্ন করতে এবং বৈশ্বিক নানা সংকট ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরির কাজ করবেন তিনি।
এর আগে চলতি বছরের গত ২ জুন নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত সাধারণ পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে ড. খলিলুর রহমান ইউএনজিএ’র ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হন। ওই প্রতিযোগিতাপূর্ণ নির্বাচনে তিনি সাইপ্রাসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিশেষ দূত আন্দ্রেয়াস এস কাকোরিসকে আট ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে বাংলাদেশের পক্ষে এই গৌরব অর্জন করেন। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের কূটনীতির দক্ষতা এবং দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার ক্ষেত্রে এই নির্বাচন ও পরবর্তী দায়িত্ব পালন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।
এদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই দীর্ঘ প্রায় দুই মাসের বিদেশ সফরকালীন সময়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম গতিশীল রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত দাপ্তরিক দায়িত্বের পাশাপাশি অন্যান্য সকল গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে সর্বাত্মক সহায়তা এবং মন্ত্রণালয়ের সার্বিক কার্যক্রম তদারকি করবেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, এবারের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বৈশ্বিক শান্তি রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন, অভিবাসী অধিকার এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করার মতো বিষয়গুলো বিশেষভাবে প্রাধান্য পাবে। বাংলাদেশ দীর্ঘ সময় ধরে জাতিসংঘের বিভিন্ন শান্তিরক্ষা মিশনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে এবং বিশ্বমঞ্চে শান্তি ও মানবতার পক্ষে জোরালো অবস্থান ধরে রেখেছে। ড. খলিলুর রহমানের মতো একজন অভিজ্ঞ কূটনীতিক এই অধিবেশনে সভাপতির আসন অলংকৃত করায় বৈশ্বিক নীতি নির্ধারণী প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের ভূমিকা আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশা করা হচ্ছে। অধিবেশন শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
জাতীয় শীর্ষ সংবাদ