রাজনীতি ডেস্ক
বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্রকে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করতে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। জাতীয় সংসদের সফররত ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) সেক্রেটারি জেনারেল অ্যান্ডা ক্রিস্টিনা ফিলিপের সঙ্গে বৈঠকের পর আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নুরুল ইসলাম এই কথা জানান। তিনি উল্লেখ করেন, গত দু’টি অধিবেশনে সরকার ও বিরোধী দল যেভাবে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে সংসদীয় কার্যক্রম পরিচালনা করেছে, তা আন্তর্জাতিক মহলেও প্রশংসিত হয়েছে। সংসদে ভিন্নমত থাকাকে গণতন্ত্রের সৌন্দর্য হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, ভিন্নমতের ভিত্তিতেই দেশের জন্য সর্বোত্তম সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্ভব।
চিফ হুইপ জানান, বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের চর্চায় সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহযোগিতা ও সমন্বয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে, যা আইপিইউ প্রতিনিধিরা ইতিবাচকভাবে দেখেছেন। সংসদের সাম্প্রতিক কার্যক্রমে সরকার ও বিরোধী দল একসঙ্গে আলোচনা করে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করায় তারা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক নেতাদের পারস্পরিক সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ সংসদীয় গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে চিফ হুইপ জানান, জুলাই সনদে যেসব সংস্কারের বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে, সে বিষয়গুলো বিদ্যমান সংবিধানের সংশোধনের মাধ্যমেই অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর পদের মেয়াদ সর্বোচ্চ দুই মেয়াদ বা ১০ বছরে সীমিত করা, উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠা এবং সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধনের মতো বিষয়গুলো রয়েছে। তিনি বলেন, সংবিধানের কোনো বিধান বাতিল বা সংশোধন করতে হলে সেটি যথাযথ আইনি ও সংসদীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সম্পন্ন করতে হবে। ৭০ অনুচ্ছেদ প্রসঙ্গে তিনি জানান, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি বা সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবের মতো মৌলিক কিছু বিষয় ছাড়া অনুচ্ছেদটিতে সংস্কার আনার প্রত্যাশা রয়েছে।
বৈঠকে বাংলাদেশের সংসদীয় কার্যক্রমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উত্তম চর্চা অনুসরণ, নারীর ক্ষমতায়ন, সংসদে নারী প্রতিনিধিদের ভূমিকা এবং তরুণ সংসদ সদস্যদের দায়িত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। আইপিইউ প্রতিনিধিরা সংসদীয় কার্যক্রমকে আরও দক্ষ ও কার্যকর করতে বাংলাদেশকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে বিরোধী দলের সংসদ সদস্য আখতার হোসেনও উপস্থিত ছিলেন। তিনি জানান, আইপিইউ প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে অতীতের বিভিন্ন রাজনৈতিক নিপীড়ন, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং গুম-খুনের প্রকৃত চিত্র আন্তর্জাতিক মহলের কাছে তুলে ধরার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এছাড়া গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন সংক্রান্ত দুটি বিল সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে এবং পরবর্তী অধিবেশনে এসব বিল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ রাখা হয়েছে।
চিফ হুইপ তার বক্তব্যে বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় কাউকে বাদ দিয়ে নয়, বরং সবাইকে সঙ্গে নিয়েই দেশের সমস্যার সমাধান করতে হবে। সরকারের পাশাপাশি বিরোধী দল ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের অংশগ্রহণে দেশের গণতান্ত্রিক ধারাকে সুদৃঢ় করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে সরকারি দলের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান ও মোছা. তাহসিনা রুশদী উপস্থিত ছিলেন।


