বাংলাদেশ ডেস্ক
রাষ্ট্রের কল্যাণ ও জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে কারও সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু। তিনি বলেছেন, পাহাড় ও সীমান্তবর্তী অঞ্চলের মানুষের মঙ্গলের জন্য সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং কেবল দাপ্তরিক নথিপত্র সই বা দূরবর্তী নির্দেশনা দেওয়ার পরিবর্তে মাঠপর্যায়ে সরাসরি উপস্থিত থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) সচিবালয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে কক্সবাজার জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা, উন্নয়নমূলক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম সমন্বয় সংক্রান্ত এক গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। মন্ত্রণালয়ের আয়োজিত এই সভায় ভার্চুয়াল মাধ্যমে যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান। এতে স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), কোস্টগার্ড, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও পল্লী বিদ্যুৎসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।
সভায় কক্সবাজার জেলাকে একটি দীর্ঘমেয়াদি ও সুপরিকল্পিত মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় আনার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। মন্ত্রী বলেন, দেশের সার্বিক সুরক্ষা এবং সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অপরাধ ও মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ বা শূন্য সহনশীলতা নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। জাতীয় নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে মাদকদ্রব্য পাচার ও নিয়ন্ত্রণ রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
বৈঠকে কক্সবাজারের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সীমান্ত এলাকার অপরাধ দমন, চোরাচালান রোধ এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ অভিযান জোরদার করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী জনপদগুলোতে অপহরণ ও মানবপাচার রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়। এছাড়া কৃষি খাতের সুরক্ষায় সারের পাচার রোধ এবং এর সুষম বণ্টন নিশ্চিত করার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পর্যটন নগরী কক্সবাজারের সৌন্দর্য রক্ষা ও পর্যটকদের স্বস্তি নিশ্চিত করতে উন্নত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দেওয়া হয়। একইসঙ্গে পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার্থে প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে সব ধরনের অবৈধ স্থাপনা ও রিসোর্ট নির্মাণ অবিলম্বে বন্ধের কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দ্বীপের প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এই পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে সভায় মত প্রকাশ করা হয়।
রোহিঙ্গা সংকট এবং এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে সমন্বিত উদ্যোগের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, উদ্ভূত সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে একটি টেকসই ও স্থায়ী সমাধানের পথ খুঁজে বের করা হবে। এজন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং কক্সবাজারের স্থানীয় সংসদ সদস্যদের সঙ্গে নিবিড় সমন্বয় সাধন করে যৌথভাবে কাজ করা হবে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও সুসংহত করতে পুলিশ, বিজিবি, কোস্টগার্ড এবং স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে নিয়মিত যৌথ টহল পরিচালনা এবং অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে বিশেষ অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারের নীতিনির্ধারক মহলের মতে, এসব বহুমুখী পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে কক্সবাজার জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতির পাশাপাশি পর্যটন শিল্পের টেকসই বিকাশ এবং জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।


