রাজধানী ডেস্ক
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষককে বিভিন্ন অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এছাড়া নিয়োগ ও একাডেমিক শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সিন্ডিকেট সভায় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং নানা অনিয়মের অভিযোগে চার শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সাময়িক বরখাস্ত হওয়া শিক্ষকরা হলেন শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. এম ওয়াহিদুজ্জামান, অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান লিটু, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মশিউর রহমান এবং সংগীত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. জিয়াউর রহমান। এর মধ্যে প্রথম তিনজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে। অন্যদিকে, সংগীত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ডিগ্রি না থাকার বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় সিন্ডিকেট এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। নিয়োগের শর্ত পূরণে ব্যর্থতার এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বচ্ছতা ও নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বজায় রাখার বিষয়টি জোরালোভাবে সামনে এসেছে।
এছাড়া একই সিন্ডিকেট সভায় সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় একাডেমিক কমিটির সুনির্দিষ্ট সুপারিশের ভিত্তিতে ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ড. শবনম জাহানের বিরুদ্ধে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখে পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য এই কমিটি কাজ করবে।
সভায় শিক্ষক বরখাস্ত ও তদন্ত কমিটি গঠনের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও সাধারণ শিক্ষার্থী সংশ্লিষ্ট বেশ কিছু নীতিগত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ২০১৯ সালের নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদ সংক্রান্ত বিষয়ে একটি সিদ্ধান্ত। সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তৎকালীন কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব এবং ঘোষণা চূড়ান্ত করা হয়েছে।
এদিকে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের আবাসিক হলগুলোর প্রধান গেট বন্ধের সময়সীমা এক ঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে নারী শিক্ষার্থীদের হলে প্রবেশের সময়সীমা রাত ১০টার পরিবর্তে রাত ১১টা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা, যা তাদের চলাচলের ক্ষেত্রে কিছুটা স্বস্তি নিয়ে আসবে বলে মনে সংশ্লিষ্টরা করছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে শিক্ষক পর্যায়ে শৃঙ্খলা রক্ষা এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এ ধরনের সিন্ডিকেট সিদ্ধান্ত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রশাসন কঠোর অবস্থান বজায় রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রশাসনিক ও একাডেমিক এই সিদ্ধান্তগুলোর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক কার্যক্রমে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।


