দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমানো হয়েছে, নতুন দর কার্যকর সোমবার থেকে

দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমানো হয়েছে, নতুন দর কার্যকর সোমবার থেকে

অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের বা পিওর গোল্ডের দাম হ্রাসের বিষয়টি বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাজুসের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সবশেষ নির্ধারিত মূল্যের তুলনায় ভরিতে ৪ হাজার ১১৫ টাকা কমানো হয়েছে। এর ফলে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩৬ হাজার ২৫৪ টাকা। সোমবার সকাল ১০টা থেকে স্বর্ণের এই নতুন দাম কার্যকর করা হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সারা দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই দর বহাল থাকবে।
বাজুস থেকে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিশ্ববাজার ও স্থানীয় bullion বা পাকা স্বর্ণের দামের ওঠানামার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং সাধারণ ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার বিষয়টি মাথায় রেখে জুয়েলারি খাতের ব্যবসায়ীরা এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। নতুন এই মূল্য তালিকা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের পাশাপাশি অন্যান্য গ্রেডের স্বর্ণের দামেও উল্লেখযোগ্য পতন ঘটেছে। ক্রেতাদের জন্য ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৫ হাজার ৬৪০ টাকা। এ ছাড়া ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হবে ১ লাখ ৯৩ হাজার ৭৩৯ টাকায় এবং ঐতিহ্যবাহী সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৮ হাজার ২৮০ টাকা।
স্বর্ণের গহনা ক্রয়ের ক্ষেত্রে বাজুসের নির্ধারিত এই মূল্যের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি যুক্ত হবে। তবে অলঙ্কারের ডিজাইন ও কারুকার্যের ভিন্নতার ওপর ভিত্তি করে মজুরির পরিমাণে তারতম্য হতে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। এর আগে বাজারে তেজাবি স্বর্ণের দাম কিছুটা বাড়তি থাকায় ক্রেতাদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছিল, যা বর্তমান মূল্য হ্রাসের ফলে কিছুটা হলেও স্বস্তি এনে দিয়েছে সাধারণ মানুষের মনে।
স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার দামেও বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে বাজুস। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ক্যাটাগরিভেদে রুপার দামেও কিছুটা হ্রাস বা সংযোজন করা হয়েছে। মানভেদে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৫ হাজার ১৩২ টাকা, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৪ হাজার ৯৫৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৪ হাজার ২৫৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ২০৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
অর্থনীতিবিদ ও বাজার বিশ্লেষকদের মতে, দেশের সোনার বাজার মূলত আন্তর্জাতিক bullion মার্কেটের ওপর নির্ভরশীল। বিশ্ববাজারে আউন্সপ্রতি স্বর্ণের মূল্যের ওঠানামা এবং মার্কিন ডলারের বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার বিনিময় হারের তারতম্যের কারণে স্থানীয় বাজারে এর সরাসরি প্রভাব পড়ে। মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত উভয়ের জন্যই স্বর্ণ কেবল একটি অলংকার নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয় ও বিনিয়োগের অন্যতম নিরাপদ মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হয়। তাই দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কমায় বা বাড়ায় সাধারণ ক্রেতা থেকে শুরু করে স্বর্ণালংকার ব্যবসায়ীদের ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ব্যাপক প্রভাব পড়ে। বাজুসের এই নতুন মূল্য নির্ধারণের ফলে দেশের স্বর্ণ ব্যবসায় দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব বজায় থাকবে এবং ক্রেতারা তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক মূল্যে ধাতু ক্রয়ের সুযোগ পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
অর্থ বাণিজ্য