প্রাথমিক স্তর থেকেই স্কাউটিং ও নৈতিক শিক্ষার ওপর জোর দিলেন শিক্ষামন্ত্রী

প্রাথমিক স্তর থেকেই স্কাউটিং ও নৈতিক শিক্ষার ওপর জোর দিলেন শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষা ডেস্ক
দেশে মাদকাসক্তি ও নৈতিক অবক্ষয় রোধে প্রাথমিক স্তর থেকেই খেলাধুলা, স্কাউটিং এবং নৈতিক শিক্ষা চালুর ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা, দেশপ্রেম ও মানবতাবোধ গড়ে তুলতে এসব সহশিক্ষা কার্যক্রমের কোনো বিকল্প নেই।
বুধবার রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট অডিটোরিয়ামে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জনকারী মেধাবী স্কাউটদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমান সময়ে সমাজে মাদকাসক্তির বিস্তার এবং শিক্ষাব্যবস্থায় নৈতিকতার যে ঘাটতি দেখা দিয়েছে, তা উত্তরণে শিক্ষাব্যবস্থাকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে হবে। স্কাউটিংয়ের মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা, জনসম্পৃক্ততা, মানুষের প্রতি ভালোবাসা এবং দেশের জন্য আত্মত্যাগের মানসিকতা তৈরি হয়। একইভাবে নিয়মিত খেলাধুলার চর্চার মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে নেতৃত্বের গুণাবলি, নৈতিক মূল্যবোধ ও কঠোর শৃঙ্খলা গড়ে ওঠে, যা তাদের সব ধরনের অসদুপায় ও মাদক থেকে দূরে রাখে।
মেধাবী শিক্ষার্থীদের দেশের ভবিষ্যৎ চালিকাশক্তি হিসেবে অভিহিত করে মন্ত্রী বলেন, আগামী দিনের বাংলাদেশ বিনির্মাণে আজকের এই মেধাবী প্রজন্মকেই অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। দেশের সার্বিক উন্নয়নে এ মেধা এবং বিশাল জনসংখ্যাকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করতে সক্ষম হবে। মেধাবীদের যথাযথ মূল্যায়ন ও সহায়তা প্রদানের মাধ্যমেই দেশ কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতির পথে এগিয়ে যাবে।
সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী জানান, দেশের প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য ইতিমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২২ লাখ প্রাথমিক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে ফুটবল প্রতিযোগিতার আয়োজন এবং সফলদের পুরস্কৃত করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য পোশাক ও মিডডে মিল চালুর প্রক্রিয়া চলছে। নতুন শিক্ষাক্রমে চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা, সংস্কৃতি এবং নৈতিক শিক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ ধারণার সংযোজন এবং কারিগরি শিক্ষার সম্প্রসারণের ওপরও জোর দেওয়া হচ্ছে। স্কাউট ও বিএনসিসির কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে পৃথক স্কিম ও উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
নারী শিক্ষার অগ্রগতির প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, নারী শিক্ষায় চালু হওয়া উপবৃত্তি কর্মসূচি সমাজে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে। অতীতে এই উদ্যোগের ফলেই নারী শিক্ষায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধিত হয়েছে যা আন্তর্জাতিক মহলেও প্রশংসিত হয়েছে। বর্তমান সরকার শিক্ষা খাতের বাজেট বৃদ্ধিসহ স্কাউটের সার্বিক উন্নয়নে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
জাতীয় শীর্ষ সংবাদ