আন্তর্জাতিক ডেস্ক
দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন এলাকায় মার্কিন বিমান হামলার জবাবে জর্ডান, ইরাক, কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনা এবং লক্ষ্যবস্তুতে সমন্বিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) এবং দেশটির নিয়মিত সেনাবাহিনী জানিয়েছে, সাম্প্রতিক মার্কিন আগ্রাসনের প্রতিক্রিয়ায় এই সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
আইআরজিসির ভাষ্য অনুযায়ী, হরমোজগান প্রদেশের সিরিক এলাকায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন বিমান হামলায় শিশুসহ বেশ কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার পর এই পাল্টা আক্রমণ শুরু হয়। এই ধারাবাহিকতায় জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটি ও ক্যাম্প তিতিন মার্কিন সামরিক ব্যারাক লক্ষ্য করে ভারী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করা হয়। ইরানি দাবি অনুযায়ী, এসব হামলায় মার্কিন সামরিক ড্রোন হ্যাঙ্গার, কারিগরি অবকাঠামো এবং আক্রমণকারী হেলিকপ্টার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বেশ কয়েকজন মার্কিন সেনা হতাহত হয়েছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও জর্ডান এই হতাহতের দাবি অস্বীকার করেছে। জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সফলভাবে ১০টি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র মাঝপথে ধ্বংস করেছে এবং বাকি তিনটি জনবসতিহীন এলাকায় পড়ায় কোনো প্রাণহানি হয়নি।
এদিকে উত্তর ইরাকের এরবিল প্রদেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাতেও সমন্বিত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে আইআরজিসি। তাদের দাবি, এই হামলায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর একটি মেরামতকেন্দ্র, কারিগরি সরঞ্জামাদি সংরক্ষণের গুদাম এবং নজরদারি বেলুনের গাইডেন্স সিস্টেম ধ্বংস হয়েছে। পাশাপাশি কুয়েতের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা দেশটির আকাশসীমায় প্রবেশ করা ড্রোন প্রতিহত করেছে বলে কুয়েত সেনাবাহিনী নিশ্চিত করেছে। অন্যদিকে বাহরাইনের শেখ ইসা বিমানঘাঁটিতে মার্কিন সেনা মোতায়েন থাকা এলাকা ও রাডার লক্ষ্য করে একঝাঁক ড্রোন নিক্ষেপ করেছে ইরানি সেনাবাহিনী, যা তাদের পূর্বঘোষিত অভিযানের অংশ বলে জানানো হয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার দক্ষিণ ইরানের বন্দর আব্বাস, কেশম দ্বীপ, কোনারাক, চাবাহার, জাস্ক, সিরিক, লাভান ও আসলুয়েহসহ বিভিন্ন কৌশলগত এলাকায় তীব্র বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে নিরাপত্তা প্রদান ও পেন্টাগনের পূর্বের নির্দেশ অমান্য করে চলাচলের বিরোধিতার জেরে এই হামলা চালানো হয়। এই পাল্টাপাল্টি সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, ইরান যদি এই হামলার পাল্টা জবাব দেওয়া অব্যাহত রাখে, তবে দেশটির ওপর আরও ধ্বংসাত্মক ও কঠোর সামরিক আঘাত হানা হবে। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে এই সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার ফলে হরমুজ প্রণালী ও এর আশেপাশের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তীব্র অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে শুরু করেছে।


