আন্তর্জাতিক ডেস্ক
জাপানে সম্প্রতি মানুষের ওপর ভাল্লুকের হামলার ঘটনা রেকর্ড ছাড়িয়েছে। প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি রোধ করতে দেশটির পক্ষ থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ড্রোন এবং রোবট নেকড়ের মতো আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হয়েছে। বন্যপ্রাণী ও মানুষের এই সংঘাত নিরসনে আধুনিক প্রযুক্তির পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী কৌশলেরও আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জাপানে ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত ভাল্লুকের হামলায় ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ২২০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। মূলত গ্রামাঞ্চলে জনসংখ্যা হ্রাস, কৃষিজমি সংকুচিত হওয়া এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বনাঞ্চলে খাদ্যের সংকট তৈরি হওয়ায় ভাল্লুকগুলো লোকালয়ের দিকে চলে আসছে। গত বছর দেশটিতে প্রায় ৫০ হাজার বার ভাল্লুক দেখার খবর নথিভুক্ত করা হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার ও স্থানীয় প্রশাসন নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বনাঞ্চল ও জনবসতির সীমানা চিহ্নিত করে সেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) যুক্ত ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এই ক্যামেরাগুলো ভাল্লুকের উপস্থিতি ও গতিবিধি শনাক্ত করে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্কবার্তা পাঠায়। বিশেষ করে হোক্কাইডো অঞ্চলে ড্রোনের সাহায্যে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালিয়ে লোকালয় থেকে ভাল্লুক তাড়িয়ে দেওয়ার কাজ চলছে।
কৃষিজমি ও জনপদ সুরক্ষায় সৌরচালিত ‘মনস্টার উলফ’ বা নেকড়ে রোবটের ব্যবহারও বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। প্রায় ৪ হাজার ডলার মূল্যের এই রোবটটি দেখতে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া জাপানি নেকড়ের মতো এবং এটি বিভিন্ন ধরনের ভীতিকর শব্দ তৈরি করে ভাল্লুককে দূরে রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া সাধারণ মানুষকে সতর্ক করতে ড্যানিয়েল কোকা নামক এক প্রকৌশলী ‘কুমাম্যাপ’ নামের একটি মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করেছেন, যার মাধ্যমে প্রায় ৬০ লাখ ব্যবহারকারী ভাল্লুকের চলাচলের রিয়েল-টাইম তথ্য জানতে পারছেন।
প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিরও সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। ফিনল্যান্ড থেকে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ‘কারেলিয়ান বিয়ার ডগ’ বা ভাল্লুক শিকারি কুকুর আমদানি করা হয়েছে। এই কুকুরগুলোর সহায়তায় ভাল্লুককে কোনো ধরনের শারীরিক ক্ষতি না করেই নিরাপদে লোকালয় থেকে বনে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। প্রযুক্তির সঙ্গে এই প্রাণীর কার্যকর ব্যবহারের ফলে বন্যপ্রাণী ও মানুষের মধ্যকার সংঘাত অনেকাংশে কমে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।


