খেলাধূলা ডেস্ক
আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায়ের ঘোষণা দেওয়ার পরও ঘরের মাঠে সমর্থকদের সামনে আর্জেন্টিনার জার্সিতে আরও একবার মাঠে নামার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে লিওনেল মেসির জন্য। আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) আগামী আন্তর্জাতিক ফিফা উইন্ডোতে এই মহাতারকার জন্য একটি বিশেষ বিদায়ী ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা করছে বলে দেশটির গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
গত ৩১ আগস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ এক বার্তা প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানান মেসি। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে আর্জেন্টিনার হারের পরই তার বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সমাপ্তি ঘটবে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল। তবে দেশের মাটিতে ভক্তদের সামনে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানানোর সুযোগ তৈরি করতে তৎপর হয়েছে এএফএ।
আসন্ন ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবর পর্যন্ত নির্ধারিত ফিফা আন্তর্জাতিক উইন্ডোতে আর্জেন্টিনা দুই থেকে তিনটি প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে ম্যাচগুলোর সুনির্দিষ্ট তারিখ, ভেন্যু কিংবা প্রতিপক্ষ দল এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি। আর্জেন্টিনার বিভিন্ন ক্রীড়া মাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, সবকিছু অনুকূলে থাকলে দেশের মাটিতেই মেসির এই অন্তিম আন্তর্জাতিক ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হতে পারে। রাজধানী বুয়েনস এইরেসের ঐতিহ্যবাহী এস্তাদিও মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামকে এই ম্যাচের সম্ভাব্য প্রধান ভেন্যু হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এছাড়া মেসির জন্মশহর রোজারিও কিংবা কর্দোবাতেও ম্যাচ আয়োজনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে।
তবে ঘরের মাটিতে এই বিদায়ী ম্যাচ আয়োজনের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করছে লিওনেল মেসির ব্যক্তিগত সম্মতির ওপর। এএফএ কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে দ্রুতই ফুটবল জাদুকরের সঙ্গে আলোচনা শুরু করবে বলে জানা গেছে। তিনি যদি এই বিশেষ ম্যাচে অংশ নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন, তবেই বিষয়টি চূড়ান্ত রূপ পাবে। অন্যথায় এটি কেবল সংবাদমাধ্যমের সম্ভাবনার স্তরেই সীমাবদ্ধ থাকবে।
গত বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিকেই মেসির শেষ প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছিল। ওই হারের মধ্য দিয়ে আর্জেন্টিনার হয়ে তার সুদীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি ঘটে। দেশের হয়ে তিনি মোট ২০৭টি ম্যাচ খেলে ১২৫টি গোল করার অনন্য কৃতিত্ব অর্জন করেছেন। তার নেতৃত্বেই আর্জেন্টিনা ২০২২ সালে ফিফা বিশ্বকাপসহ মোট ছয়টি বড় শিরোপা জয় করে, যা দেশটির ফুটবল ইতিহাসে সোনালী অধ হয়ে আছে।
দেশের মাটিতে এই ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হলে তা কোনো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ হবে না। বরং এটি হবে ভক্ত-সমর্থকদের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে জাতীয় দলের জার্সি ও অধিনায়কের আর্মব্যান্ড পরে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নেওয়ার একটি সোনালী সুযোগ। ক্লাব ফুটবলে অবশ্য মেসি এখনো সক্রিয় রয়েছেন এবং মেজর লিগ সকার (এমএলএস) ক্লাব ইন্টার মায়ামির সঙ্গে তার বর্তমান চুক্তি বলবৎ রয়েছে। ফলে শারীরিক ফিটনেস ঠিক থাকলে একটি প্রীতি ম্যাচে অংশগ্রহণ করা তার জন্য খুব একটা বড় চ্যালেঞ্জ হবে না বলেই মনে করছেন ক্রীড়া বিশ্লেষকরা।
এদিকে, মেসির এই সম্ভাব্য বিদায়ের পর জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব ও স্কোয়াড গঠন নিয়ে পরিকল্পনা শুরু করেছে টিম ম্যানেজমেন্ট। দলের পরবর্তী অধিনায়ক হিসেবে ডিফেন্ডার ক্রিস্টিয়ান রোমেরোর নাম সবচেয়ে জোরালোভাবে আলোচিত হচ্ছে। এর আগেও মেসি অনুপস্থিত থাকাকালীন তিনি বেশ কয়েকবার সফলভাবে দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন। এ ছাড়া গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ ও মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজও সম্ভাব্য নেতৃত্বের দৌড়ে রয়েছে। অন্যদিকে, মেসির ঐতিহাসিক ১০ নম্বর জার্সির উত্তরসূরি হিসেবে তরুণ মিডফিল্ডার নিকো পাজের নাম সামনে আসছে। তবে এই সমস্ত পরিকল্পনার পাশাপাশি বর্তমান কোচ লিওনেল স্কালোনি দলের দায়িত্বে দীর্ঘমেয়াদে থাকবেন কি না, সেটিও আগামী দিনে আর্জেন্টিনার ফুটবলের জন্য একটি বড় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।


