রাজধানী ডেস্ক
রাজধানীতে অপরাধ দমন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে পরিচালিত নিয়মিত অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৩৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। অপরাধমূলক কার্যক্রম প্রতিরোধ, পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের আটক এবং অবৈধ মাদক ও অস্ত্র উদ্ধারের অংশ হিসেবে রাজধানীর বিভিন্ন থানা ও গোয়েন্দা ইউনিটের সমন্বয়ে এই বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মোট ৬৯টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, রাজধানীর বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে এই সাঁড়াশি অভিযান চালানো হয়েছে।
ডিএমপির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর আটটি অপরাধ বিভাগের মধ্যে মিরপুর বিভাগে সর্বোচ্চ ১৬৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়াও তেজগাঁও বিভাগে ৮৩ জন, উত্তরা বিভাগে ৬০ জন, গুলশান বিভাগে ৫১ জন, মতিঝিল বিভাগে ৬৪ জন, ওয়ারী বিভাগে ৪১ জন, লালবাগ বিভাগে ৩২ জন এবং রমনা বিভাগে ৩২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর পাশাপাশি, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) ৭ জন এবং কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট ১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
অভিযানকালে পুলিশ বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ও অপরাধে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করে। উদ্ধারকৃত আলামতের মধ্যে রয়েছে ৫ হাজার ৩৮৩ পিস ইয়াবা বড়ি এবং ৪৬ কেজি ৯০০ গ্রাম গাঁজা। মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত পদক্ষেপের অংশ হিসেবে এই মাদকগুলো জব্দ করা হয়। এছাড়া অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের অভিযোগে একটি ছুরি, একটি এন্টিকাটার, পাঁচটি মুঠোফোন, দুটি হাতকড়া (হ্যান্ডকাফ), একটি মোটরসাইকেল, একটি প্রাইভেটকার, একটি মাইক্রোবাস এবং নগদ ২০০ টাকা উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীতে চুরি, ছিনতাই, মাদক কারবার এবং বিভিন্ন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের ধরতে এই ধরনের বিশেষ অভিযান জোরালো করা হয়েছে। নগরীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডিএমপির প্রতিটি অপরাধ বিভাগ নিয়মিত টহল ও তল্লাশি চৌকি পরিচালনা করছে। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় প্রচলিত আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া গ্রহণের মাধ্যমে আদালতে প্রেরণের প্রস্তুতি চলছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর এ ধরনের নিয়মিত ও জোরালো অভিযানের ফলে অপরাধ প্রবণতা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে এবং সাধারণ নাগরিকরা আরও নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক পরিবেশে বসবাস করতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে। রাজধানীর সার্বিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে ডিএমপির এই ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।


