বিশেষ প্রতিবেদক
দেশের স্বাস্থ্য খাতের জনবল সংকট দূর করতে সাত হাজার নার্সসহ মোট ৪২ হাজার ৩৯০ জন নতুন জনবল নিয়োগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সিলেট সফরকালে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এই ঘোষণা দেন। এ সময় বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির উপস্থিত ছিলেন। সরকারের এই পদক্ষেপে স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নত হবে এবং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, চিকিৎসাসেবাকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করতে চিকিৎসক নিয়োগের প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে চলছে। এরই মধ্যে ছয় হাজার চিকিৎসক নেওয়ার উদ্যোগের অংশ হিসেবে এক হাজার পদের সাক্ষাৎকার সম্পন্ন হয়েছে। বাকি পাঁচ হাজার চিকিৎসকের পদ সৃষ্টির জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া স্বাস্থ্য খাতে মিডওয়াইফ ও নার্সসহ মোট ৪২ হাজার ৩৯০ জন জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে, যার মধ্যে ৮০ শতাংশ পদে নারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
দীর্ঘদিন ধরে দেশের চিকিৎসালয়গুলোতে তীব্র জনবল সংকট চলে আসছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ড অনুযায়ী জনসংখ্যার অনুপাতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীর সংখ্যা বাংলাদেশে অনেক কম। মন্ত্রী নিজেই উল্লেখ করেন যে, বর্তমানে দেশে প্রতি ১১ হাজার থেকে ১২ হাজার মানুষের বিপরীতে মাত্র একজন চিকিৎসক বা নার্স নিয়োজিত রয়েছেন। এই সীমিত জনবল নিয়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের দিন-রাত বিরামহীনভাবে সেবা দিতে হচ্ছে। নতুন এই বিশাল নিয়োগ বাস্তবায়িত হলে প্রান্তিক পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য হবে এবং চিকিৎসকদের ওপর অতিরিক্ত কাজের চাপ অনেকাংশে হ্রাস পাবে।
হাসপাতালগুলোতে দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য এবং অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি হাসপাতালকে দালালমুক্ত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। একটি চক্র সাধারণ রোগীদের ভুল বুঝিয়ে বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। এই দালালচক্র দমনে র্যাব এবং গোয়েন্দা সংস্থাসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যৌথভাবে কাজ করছে। বহু হাসপাতালে আকস্মিক অভিযান চালিয়ে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
অবৈধ ক্লিনিক ও ভুয়া চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে চলমান মোবাইল কোর্ট পরিচালনা প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, জেলাগুলোতে জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও সিভিল সার্জনদের মাধ্যমে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। ভুয়া সার্টিফিকেটধারী টেকনিশিয়ান ও ভুয়া ডাক্তার দিয়ে অপারেশন পরিচালনাকারী অনেক প্রতিষ্ঠান সিলগালা ও জরিমানা করা হয়েছে। এই অভিযান নিয়মিতভাবে দেশব্যাপী চলবে।
সরকারি হাসপাতালের সেবার মানোন্নয়ন ও পরিচ্ছন্নতা তদারকির বিষয়ে মন্ত্রী জানান, গত এক মাসে তিনি দেশের ২৫টির বেশি হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন এবং অধিকাংশ স্থানে চিকিৎসকদের উপস্থিতি সন্তোষজনক পেয়েছেন। রোগীদের ফিডব্যাক অনুযায়ী চিকিৎসার পরিবেশ ও খাবারের মান আগের চেয়ে উন্নত হয়েছে। এছাড়া সিলেট অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবার অবকাঠামো আরও শক্তিশালী করতে একটি পূর্ণাঙ্গ শিশু হাসপাতাল স্থাপনের জোরালো আশ্বাস দেন তিনি। সামগ্রিক এই উদ্যোগগুলো দেশের স্বাস্থ্য খাতের দীর্ঘমেয়াদী সংস্কার ও সেবার মান বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।


