জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের আসন্ন অধিবেশনে গুরুত্ব পাবে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ ও জাতীয় স্বার্থ

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের আসন্ন অধিবেশনে গুরুত্ব পাবে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ ও জাতীয় স্বার্থ

রাজনীতি ডেস্ক
গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠার পর প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের আসন্ন বার্ষিক অধিবেশনে অংশ নিতে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের রাজনৈতিক পরিবর্তন ও অগণতান্ত্রিক পরিবেশ পেরিয়ে বাংলাদেশ পুনরায় একটি গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে আসার পর আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি তুলে ধরার এটি একটি বড় সুযোগ। আগামী সেপ্টেম্বর মাসে অনুষ্ঠিতব্য এই সাধারণ পরিষদের অধিবেশন বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আজ শনিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক নিয়মিত ব্রিফিংয়ে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি জানান, আসন্ন জাতিসংঘ অধিবেশনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতির মূল প্রতিপাদ্য ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ বা ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ ধারণাকে সামনে রেখে দেশের জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি, নতুন সম্ভাবনা এবং বহুমুখী উন্নয়নের রূপরেখা জোরালোভাবে তুলে ধরা হবে।
ব্রিফিংয়ে শামা ওবায়েদ আরও জানান, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের এবারের সেশনে সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। দেশের কোনো প্রতিনিধির এমন মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক পদে আসীন হওয়া এবং গণতান্ত্রিক উত্তরণের পর সরকারপ্রধানের এই প্রথম জাতিসংঘ সফর বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বৈশ্বিক শান্তি রক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের ভূমিকা তুলে ধরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব শান্তি রক্ষায় নিয়োজিত বাংলাদেশ শান্তিরক্ষী মিশনের কার্যক্রমের জন্য জাতিসংঘ বরাবরই বাংলাদেশকে গভীর শ্রদ্ধা ও সম্মান জানিয়ে আসছে। বিশেষ করে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের অসাধারণ সাহসিকতা, পেশাদারিত্ব এবং সংকটময় পরিস্থিতিতে অটল ধৈর্য বা রেজিলিয়েন্স আন্তর্জাতিক মহলে অত্যন্ত উচ্চমাত্রায় মূল্যায়িত হয়। শান্তিরক্ষী কার্যক্রমে দেশের এই সুনাম বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের কূটনৈতিক দরকষাকষির ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
রোহিঙ্গা সংকট নিরসনের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানান, দীর্ঘস্থায়ী এই সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জোরালো চাপ এবং কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি। পর্যাপ্ত আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি না হলে এই সমস্যার টেকসই ও স্থায়ী সমাধান করা কঠিন হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। বাংলাদেশ সরকার এই সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্নভাবে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন পর গণতান্ত্রিক ধারা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জনের পর জাতিসংঘের মতো বৃহৎ বৈশ্বিক মঞ্চে বাংলাদেশের এই উপস্থিতি দেশের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক রাজনীতিতে দূরবর্তী প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে দেশের অর্থনৈতিক কূটনীতি জোরদারকরণ, বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দীর্ঘমেয়াদি ভূ-রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় এই সফর গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি স্থাপন করতে পারে। সরকারের এই কূটনৈতিক পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের নতুন ভাবমূর্তি প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি বৈদেশিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল আশা প্রকাশ করছে।
জাতীয় শীর্ষ সংবাদ