ভবিষ্যতে জ্বালানি সংকট এড়াতে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে সরকার

ভবিষ্যতে জ্বালানি সংকট এড়াতে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে সরকার

বাংলাদেশ ডেস্ক
ভবিষ্যতে বিশ্বে বিভিন্ন ধরনের সংকট তৈরি হলেও দেশের মানুষকে যেন আর জ্বালানি সমস্যায় পড়তে না হয়, সে জন্য বর্তমান সরকার সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার বিকেলে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট (কেআইবি) অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বর্তমান সরকারের নীতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরে তিনি এই মন্তব্য করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত স্বৈরাচারী সরকারের রেখে যাওয়া বহুমুখী সমস্যাগুলোকে সরকার কেবল ‘অজুহাত’ হিসেবে দাঁড় করাতে চায় না। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের সময় একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি পেয়েছে। পাশাপাশি ভঙ্গুর স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে দেশ পরিচালিত হচ্ছিল। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় যে সমস্যাটি সরকার উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে, তা হলো তীব্র জ্বালানি সংকট। দেশের বহু মানুষ বর্তমানে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সংকটে নানা ধরনের কষ্টের মুখোমুখি হচ্ছেন, যা সরকার অস্বীকার করছে না।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটে ভোগা সাধারণ মানুষ এবং শিল্পকারখানার মালিকদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করে দলের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, স্বৈরাচারের রেখে যাওয়া যেসব সমস্যার কারণে আজ দেশবাসী কষ্ট ভোগ করছে, সেগুলোকে কেবল অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে দায়িত্ব এড়াতে চায় না সরকার। বরং প্রকৃত বাস্তবতা জনগণের সামনে তুলে ধরে এমন দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ ও কার্যকর কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে দেশের মানুষকে আর কখনো এই ধরনের সংকটের মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।
বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন যুদ্ধ ও সংঘাতের প্রভাব অর্থনীতির ওপর পড়ছে। মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপসহ পৃথিবীর প্রায় ৬৫টি দেশে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের এই অস্থিরতার মধ্যেও সরকার সাধ্যমতো চেষ্টা করেছে দেশের বাজারে জ্বালানির দাম সহনীয় রাখতে। তবে পরিস্থিতি যখন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তখন বাধ্য হয়েই জ্বালানির দাম সামান্য পরিধি বাড়াতে হয়েছে।
জনগণের ওপর অর্থনৈতিক চাপ কমানোর নানা উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের নেতিবাচক প্রভাব থেকে দেশবাসীকে সুরক্ষা দিতে সরকার সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সাধারণ মানুষের ওপর যাতে কোনোভাবেই অতিরিক্ত জীবনযাত্রার চাপ না পড়ে, সে জন্য সম্প্রতি পাস হওয়া জাতীয় বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় ৬০টি পণ্যের ওপর কর বা ট্যাক্স উল্লেখযোগ্য হারে কমানো হয়েছে। সরকারের প্রতিটি নীতি, সিদ্ধান্ত এবং কাজের একমাত্র লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো দেশের সাধারণ মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করা।
বিএনপির রাজনৈতিক ইতিহাস ও দেশগঠনে দলের ভূমিকার কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে প্রতিটি সংকটময় মুহূর্তে দেশের মানুষ আস্থার প্রতীক হিসেবে বিএনপিকে দায়িত্ব অর্পণ করেছে। অতীতে বিভিন্ন জাতীয় সংকটে দক্ষতার সঙ্গে দেশ পরিচালনার নজির রয়েছে এই দলের। বর্তমানের ধ্বংসপ্রাপ্ত ও বিধ্বস্ত অর্থনীতিকে সম্পূর্ণরূপে সামলে নিয়ে দেশকে একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নেওয়ার নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার।
জাতীয় শীর্ষ সংবাদ