রাজধানী ডেস্ক
সাভারের আমিনবাজার এলাকায় একটি অটোরিকশাচালককে মারধরের প্রতিবাদ করার জেরে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আলতাফ হোসেনকে (৬০) পিটিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে মো. আরিফ গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে আমিনবাজার বড়দেশি গ্রামের জনতা হাউজিং এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত মো. আলতাফ হোসেন ঢাকার মালিবাগে পুলিশ বিশেষ শাখায় (এসবি) উপপরিদর্শক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানার রূপনাই সাধুপাড়া গ্রামে। তিনি কর্মস্থলের পাশাপাশি পরিবার নিয়ে সাভারের আমিনবাজারের জনতা হাউজিং এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন এবং স্থানীয় একটি টিনশেড কারখানায় ব্যবসায়িক কার্যক্রমের সাথে যুক্ত ছিলেন।
নিহতের পরিবার, স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে কারখানা থেকে নিজের ভাড়া বাসায় ফেরার পথে আলতাফ হোসেন দেখতে পান যে একটি প্রাইভেটকারে থাকা কয়েকজন যুবক এক প্রবীণ অটোরিকশাচালককে মারধর করছেন। একজন দায়িত্বশীল নাগরিক ও আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সদস্য হিসেবে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ওই বৃদ্ধকে মারধরের কারণ জানতে চান এবং এর প্রতিবাদ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে যুবকরা আলতাফ হোসেনের ওপর চড়াও হন এবং তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করতে শুরু করেন। প্রাণ বাঁচাতে ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তিনি নিজেকে পুলিশ সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন এবং দ্রুত দৌড়ে তার ছেলের কারখানার ভেতরে আশ্রয় নেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ক্ষিপ্ত যুবকরা ক্ষান্ত না হয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বাইরে থেকে আরও ১৫ থেকে ২০ জন দুর্বৃত্তকে ডেকে আনে এবং কারখানার ভেতরে প্রবেশ করে হামলা চালায়। হামলাকারীরা কারখানার ভেতরে থাকা বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও মূল্যবান জিনিসপত্র ভাঙচুর করার পাশাপাশি আলতাফ হোসেন ও তার ছেলে আরিফকে উপর্যুপরি পিটিয়ে অচেতন করে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। ঘটনার পর স্থানীয় প্রতিবেশীরা ও পরিবারের সদস্যরা অত্যন্ত গুরুতর আহত অবস্থায় পিতা ও পুত্রকে উদ্ধার করে ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসকরা আলতাফ হোসেনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। হামলায় গুরুতর আহত তার ছেলে আরিফ বর্তমানে একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ বিষয়ে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, একটি অত্যন্ত তুচ্ছ বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তাকে পিটিয়ে হত্যার মতো heinous (নৃশংস) অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। ইতোমধ্যে এ ঘটনার সাথে জড়িত আসামিদের প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা হয়েছে। অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে এবং তাদের গ্রেপ্তারে জোরালো অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রাথমিক ধারণা, আকস্মিক বাকবিতণ্ডা থেকে এই হামলার সূত্রপাত হলেও অপরাধীদের পূর্ব কোনো ক্ষোভ বা অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জনবহুল এলাকায় এ ধরনের নৃশংস হত্যাকাণ্ড স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অবিলম্বে আসামিদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে এবং এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া হিসেবে একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।


