ভারতের কাছে হেরে ব্যর্থতার ষোলো কলা পূর্ণ করল বাংলাদেশ

বোলিংয়ে একের পর এক ক্যাচ ফেলে ভারতকে সুযোগ করে দিল বাংলাদেশ। সেই সুযোগ কাজে লাগাতে কোনো ভুল করলেন ভারতীয় ব্যাটাররা। ফাইনালের টিকিট কাটতে বড় লক্ষ্য দিল বাংলাদেশ। এরপর ব্যাটিংটা যেভাবে করা প্রয়োজন ছিল, তার ছিটে ফোঁটাও করতে পারলেন না দিলারা আক্তার-শারমিন আক্তার সুপ্তারা। ফলাফল হিসেবে বড় হারে এশিয়া কাপের যাত্রা শেষ করল বাংলাদেশ।

আজ বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুবাই ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে নারী এশিয়া কাপে সেমিফাইনালে প্রথম ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৪৯ রান করে ভারত। জবাব দিতে নেমে ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১০৯ রান করতে পারে বাংলাদেশ। ৪০ রানের বড় জয়ে ফাইনালে জায়গা করে নিল ভারত।

ফাইনালের টিকিট কাটতে হলে চলতি এশিয়া কাপে নিজেদের ছাড়িয়ে যেতে হতো বাংলাদেশ। এবারের আসরে গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ইনিংস ছিল ১২৭ রানের। কিন্তু ভারতের বিপক্ষে সেটিও করতে পারেনি বাংলাদেশ। বড় রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমেও টি-টোয়েন্টিকে ওয়ানডে বানিয়ে খেলেন ব্যাটাররা। মোটে দুজন ব্যাটারের স্ট্রাইকরেট ছিল একশর বেশি।

প্রথম ১০ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে মোটে ৪৬ রান তুলতে পারে বাংলাদেশ। এই সময়ে দলকে বিপদে ফেলে ফিরে যান দুই ওপেনার জুয়াইরিয়া ফেরদৌস আর দিলারা আক্তার। ১৮ বলে ১৪ রান আসে জুয়াইরিয়া আর ২৬ বলে ২১ রান আসে দিলারার ব্যাট থেকে। এই পিছিয়ে পড়া থেকে ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি।

এরপর জুটি গড়ার চেষ্টা করেন নিগার সুলতানা জ্যেতি আর সোবহানা মোস্তারি। ধীর গতির ব্যাটিং করা সোবহানা দায়িত্ব নেওয়ার আগেই ফিরে যান ২৪ বলে ১৮ রান করে। অধিনায়ক জ্যোতিও দায়িত্বে নিতে পারেননি। কিছুক্ষণ পরই তিনি ফেরেন ১৭ বলে ১৯ রান করে। বাংলাদেশ মূলত ম্যাচ হেরে যায় এখানেই।

এরপর স্বর্ণা আক্তারের ব্যাটে হারের ব্যবধান কমায় বাংলাদেশ। শেষদিকে ফাহিমা খাতুনকে নিয়ে কিছুটা সময় ব্যাট করে বাংলাদেশকে একশ রানের গণ্ডি পার করায়। ফাহিমা ১৪ বলে ১৪ রান করে ফিরলেও ১৮ বলে ২২ রান করে অপরাজিত থাকেন স্বর্ণা।

ভারতের হয়ে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট শিকার করেন দীপ্তি শর্মা। দুটি উইকেট নেন নান্দানি শর্মা আর একটি করে উইকেট নেন প্রেমা রাউৎ আর শ্রী চারানি।

এর আগে টস জিতে বোলিংয়ে নেমে শুরুটা মন্দ ছিল না বাংলাদেশের। দ্বিতীয় ওভারেই ভারতীয় শিবিরে আঘাত হানে বাংলাদেশ। সুলতানা খাতুনের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন স্মৃতি মান্ধানা। ৫ বল থেকে মোটে ২ রান করতে পারেন তিনি।

এরপর দ্রুতই আরও কয়েকটি সুযোগ পায় বাংলাদেশ। কিন্তু একের পর এক ক্যাচ মিসের পসরা সাজিয়ে বসে টাইগ্রেসরা। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রতিকা রাউলকে সঙ্গে নিয়ে জুটি গড়েন শেফালি ভার্মা। প্রতিকা কিছুটা ধীরগতির ব্যাটিং করলেও আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করতে থাকেন শেফালি। দুজন মিলে গড়েন ৫০ রানের জুটি।

১০ম ওভারে প্রতিকাকে ফিরিয়ে সেই জুটি ভাঙেন রাবেয়া খান। ২৪ বলে ২০ রান করে দিলারা আক্তারের হাতে ক্যাচ দেন তিনি। এরপর শেফালি ভার্মাও বেশি সময় উইকেটে থাকতে পারেননি। ১৪তম ওভারে তাকে ফেরান সুলতানা খাতুন। এর আগেই অবশ্য ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ফেরেন ৪০ বলে ৬৪ রান করে।

এরপর আঁটোসাঁটো বোলিংয়ে রানের গতি কিছুটা কমিয়ে আনে বাংলাদেশ। তবে সেই ধারা বেশি সময় ধরে রাখতে পারেনি টাইগ্রেস বোলাররা। শেষদিকে আবারও ঝোড়ো ব্যাটিং করেন রিচা ঘোষ আর দীপ্তি শর্মা। ১৬ বলে ২১ রান আসে রিচার ব্যাট থেকে আর ৬ বলে ১৩ রান দীপ্তির ব্যাট থেকে।

বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ২টি উইকেট নেন সুলতানা খাতুন। একটি করে উইকেট নেন মারুফা আক্তার, নাহিদা আক্তার আর রাবেয়া খান।

জাতীয়