ভারতের সঙ্গে সৎ ও মর্যাদাপূর্ণ সম্পর্ক চায় বাংলাদেশ : শফিকুর রহমান

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. মো. শফিকুর রহমান বলেছেন, প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশ সৎ, বন্ধুত্বপূর্ণ ও পারস্পরিক মর্যাদার ভিত্তিতে সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। একইসঙ্গে সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিক হত্যা বন্ধ, ফেলানী হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ এবং তিস্তা নদীর পানিবণ্টন সমস্যার ন্যায়সংগত সমাধান চান তিনি।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের সমাপনী দিনে বৃহস্পতিবার দেওয়া বক্তব্যে শফিকুর রহমান বলেন, ভারত যদি বাংলাদেশের সঙ্গে সৎ প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক চায়, বাংলাদেশও একইভাবে সৎ প্রতিবেশী হতে চায়। এ ক্ষেত্রে উভয় পক্ষকেই নিজেদের সদিচ্ছা স্পষ্টভাবে প্রকাশ করতে হবে এবং পারস্পরিক স্বার্থ ও মর্যাদার প্রতি সম্মান দেখাতে হবে।

তিস্তা নদীর পানিবণ্টন প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিস্তা নদীর পানি নিয়ে উত্তরাঞ্চলের মানুষ দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছে। তিস্তা সমস্যার সমাধান না হলে উত্তরবঙ্গের মানুষের কষ্ট দূর হবে না। তিনি দুই দেশের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের এই সমস্যার একটি ন্যায়সংগত ও টেকসই সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বক্তব্যে দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ সময়ের শাসনামল, রাজনৈতিক সংঘাত, মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন বিষয় উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, অতীতের ঘটনাগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে এমন একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যেখানে জনগণের মতামত, ভোটাধিকার, ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত থাকবে। তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক ঘটনা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ব্যবহারের অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। একইসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসকে শুধু দলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে নয়, বরং জনগণের অভিজ্ঞতা ও অধিকারকে সামনে রেখে মূল্যায়ন করতে হবে।

ডা. শফিকুর রহমান ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতার পরবর্তী সময়, বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিবর্তন, সামরিক শাসন, ১৯৯০ সালের গণআন্দোলন, পরবর্তী গণতান্ত্রিক সরকার এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। বক্তব্যে তিনি ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের কথাও স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ওই আন্দোলনে যারা প্রাণ দিয়েছেন তাদের আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন এবং ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, যোগাযোগ, পানি, সীমান্ত নিরাপত্তা, আঞ্চলিক শান্তি ও জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে পারস্পরিক স্বার্থকে বিবেচনায় নিয়ে সমাধান খুঁজে বের করা প্রয়োজন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সুসম্পর্কের অর্থ একতরফাভাবে কোনো পক্ষের স্বার্থ রক্ষা করা নয়। বরং উভয় দেশের জনগণের স্বার্থ, নিরাপত্তা, মর্যাদা ও অধিকারকে সমান গুরুত্ব দিয়ে সম্পর্ক পরিচালনা করাই প্রকৃত বন্ধুত্বের ভিত্তি হতে পারে।

জাতীয়