অভিযোগ বা অসন্তোষ সহিংসতায় রূপ নেওয়ার আগেই মধ্যস্থতার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। একইসঙ্গে মধ্যস্থতা ও শান্তি বিনির্মাণের সক্ষমতা বাড়াতে আরও বিনিয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কের টার্কিশ হাউজে জাতিসংঘের ‘গ্রুপ অব ফ্রেন্ডস অব মেডিয়েশন’-এর ১৬তম মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে বক্তব্য দেওয়ার সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এ আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, অভিযোগ সহিংসতায় রূপ নেওয়ার আগেই আমাদের মধ্যস্থতা করতে হবে। কারণ তখনই মানবিক ও আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি সবচেয়ে কম থাকে।
বৈঠকে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মধ্যস্থতা ও শান্তি বিনির্মাণের সক্ষমতায় বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস সাপোর্ট অপারেশন ট্রেনিংয়ের (BIPSOT) ‘ইন্টিগ্রেটেড পিসবিল্ডিং কম্পিটেন্সি প্রোগ্রাম’-এর কথাও তুলে ধরেন তিনি।
শামা ওবায়েদ বলেন, রাষ্ট্রগুলোর পাশাপাশি আঞ্চলিক অংশীজন, স্থানীয় মধ্যস্থতাকারী এবং জাতিসংঘের মধ্যে আরও শক্তিশালী অংশীদারত্ব প্রয়োজন। তবে, এক্ষেত্রে জাতীয় মালিকানার নীতিকে সম্মান করতে হবে।
প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপের ক্ষেত্রে জাতিসংঘের সক্ষমতা আরও জোরদারের আহ্বান জানিয়ে তিনি পূর্বানুমানযোগ্য অর্থায়ন, দ্রুত মোতায়েনযোগ্য মধ্যস্থতা সহায়তা এবং আগাম সতর্কতার ভিত্তিতে সময়োপযোগী উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন।
মধ্যস্থতায় প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দায়িত্বশীল ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। এক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা, স্বচ্ছতা ও গোপনীয়তা নিশ্চিত করতে যথাযথ সুরক্ষা ব্যবস্থা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে ফিনল্যান্ড ও তুরস্কের যৌথ উদ্যোগে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী ও শীর্ষ প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

