দেশে প্রথমবারের মতো ৪টি প্রতিষ্ঠানকে ডিজিটাল ব্যাংকিং পরিচালনার প্রাথমিক অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় প্রস্তাবিত চারটি ডিজিটাল ব্যাংককে লেটার অব ইনটেন্ট (এলওআই) দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান।
আজকের সভায় অনুমোদন পাওয়া ডিজিটাল ব্যাংকগুলো হলো- বিকাশ ডিজিটাল ব্যাংক, বুস্ট-রবি, ডিজিটাল ব্যাংকিং অব ভুটান এবং নোভা ডিজিটাল ব্যাংক। পাশাপাশি একই সভায় ২০২৩ সালে প্রাথমিক অনুমোদন পাওয়া কড়ি ডিজিটাল ব্যাংককেও এলওআই দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ডিজিটাল ব্যাংকের অনুমোদন পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বিকাশ ডিজিটাল ব্যাংকের উদ্যোক্তা হচ্ছে মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা ( এমএফএস) প্রতিষ্ঠান বিকাশের শেয়ারহোল্ডাররা, যার বড় শেয়ারহোল্ডার হচ্ছে ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি।
বুস্ট-রবি ডিজিটাল ব্যাংকের উদ্যোক্তাদের মধ্যে আছে মোবাইল ফোন অপারেটর রবির মূল প্রতিষ্ঠান আজিয়াটা লিমিটেড।
নোভা ডিজিটাল ব্যাংকের উদ্যোক্তাদের মধ্যে আছে মোবাইল ফোন অপারেটর বাংলালিংকের মূল প্রতিষ্ঠান ভিওন এবং বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠী স্কয়ার।
ডিজিটাল ব্যাংকিং অব ভুটান- এর মালিকানায় রয়েছে ভুটানের ডিকে ব্যাংক।
কড়ি ডিজিটাল ব্যাংকের পেছনে রয়েছেন খ্যাতিমান তথ্যপ্রযুক্তিবিদ হাবিবুল্লাহ এন করিম ও তার প্রতিষ্ঠান টেকনো হেভেন। এতে এসিআই, মোহাম্মদী গ্রুপসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মালিকানা রয়েছে।
এর আগে ১২টি প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল ব্যাংক স্থাপনের জন্য আবেদন করেছে। এগুলো হলো—ব্রিটিশ বাংলা ডিজিটাল ব্যাংক পিএলসি, ডিজিটাল ব্যাংকিং অব ভুটান-ডিকে, আমার ডিজিটাল ব্যাংক-২২ এমএফআই, ৩৬ ডিজিটাল ব্যাংক পিএলসি, বুস্ট-রবি, আমার ব্যাংক, অ্যাপ ব্যাংক-ফার্মারস, নোভা ডিজিটাল ব্যাংক-বাংলালিংক অ্যান্ড স্কয়ার, মৈত্রী ডিজিটাল ব্যাংক পিএলসি, উপকারী ডিজিটাল ব্যাংক, মুনাফা ইসলামী ডিজিটাল ব্যাংক-আকিজ এবং বিকাশ ডিজিটাল ব্যাংক।
আওয়ামী সরকারের আমলে ২০২৩ সালের অক্টোবরে নগদ ডিজিটাল ব্যাংক পিএলসি ও কড়ি ডিজিটাল ব্যাংক পিএলসি নামে দুটি ডিজিটাল ব্যাংকের অনুমোদন দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংক দুটি প্রতিষ্ঠানের ডিজিটাল লাইসেন্স স্থগিত করে।

