বিভিন্ন আয়োজনের মধ্য দিয়ে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে পালিত হয়েছে বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস ২০২৬। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের মেরুল বাড্ডা ক্যাম্পাসে দিনব্যাপী কর্মসূচির আয়োজন করে স্কুল অব ফার্মেসি। বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচির মধ্যে ছিল ফার্মা অলিম্পিয়াড, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, ভিডিও ও পোস্টার প্রতিযোগিতা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। পাশাপাশি আয়োজন করা হয় একটি সেমিনারের। ইন্টারন্যাশনাল ফার্মাসিউটিক্যাল ফেডারেশনের উদ্যোগে এ বছর বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস পালিত হচ্ছে। এবারের প্রতিপাদ্য‘ এমপাওয়ারিং ফার্মাসিস্টস ফর হেলদিয়ার ফিউচারস’। সেমিনারে শিক্ষা কারিকুলামকে সময়ের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন করে সাজানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর আরশাদ মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ইতোমধ্যে মানবদেহের কোষে সরাসরি ওষুধ পৌঁছে দিতে ন্যানোরোবট ব্যবহারের মতো উন্নত গবেষণায় এগিয়ে গেছে। এ বাস্তবতায় সময়ের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের ফার্মেসি শিক্ষার পাঠ্যক্রম নতুন করে সাজানোর বিষয়ে ভাবার সময় এসেছে। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ডিপার্টমেন্ট অব ফার্মেসির চেয়ারপারসন প্রফেসর ড. শরমিন্দ নীলোৎপল। তিনি বলেন, ফার্মেসি পেশাকে আরও এগিয়ে নিতে পাঠ্যক্রমকে সময়োপযোগী করার পাশাপাশি এ খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে হবে। একাডেমিয়া, শিল্পখাত ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সমন্বয় গড়ে উঠলে গবেষণালব্ধ জ্ঞান ও দক্ষতাকে বাস্তব কর্মক্ষেত্রে কার্যকরভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হবে। ফার্মাসিস্টদের নিবন্ধন ও গ্রেডিংয়ের ক্ষেত্রে ফার্মেসি কাউন্সিল অব বাংলাদেশকে আরও কার্যকর মানদণ্ড নির্ধারণের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। একই সঙ্গে পাঠ্যক্রম প্রণয়ন এবং ফার্মেসি পেশার কাজের পরিধি ও দায়িত্ব সুস্পষ্টভাবে নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। ওষুধের লাইসেন্স প্রদান ও বাজার তদারকির জন্য শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য নিয়ন্ত্রক কাঠামো গড়ে তুলতে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরকে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উচ্চতর নিয়ন্ত্রক সক্ষমতার মান অর্জনের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মোহা. আলমগীর হোসেন। তিনি বলেন, দেশের ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো রপ্তানির ক্ষেত্রে যেভাবে বায়োইকুইভ্যালেন্স নিশ্চিত করে, স্থানীয় বাজারের ক্ষেত্রেও তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এতে রোগীরা প্রয়োজন অনুযায়ী একটি ব্র্যান্ডেড ওষুধ এবং এর জেনেরিক বিকল্পের মধ্যে পরিবর্তন করতে পারবেন। অনুষ্ঠানে এসিআই হেলথকেয়ার লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিইও এম মহিবুজ জামান বাংলাদেশের এপিআই উৎপাদনের সম্ভাবনা নিয়ে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, প্রতিযোগী দেশগুলো অনেক বড় পরিসরে এপিআই উৎপাদন করে। ফলে তাদের উৎপাদন ব্যয় তুলনামূলকভাবে কম এবং তারা বাজারে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা পায়। এ কারণে বাংলাদেশে বর্তমানে এপিআই উৎপাদন কারখানা স্থাপন খুব বেশি বাস্তবসম্মত নয় বলে তিনি মনে করেন। অন্যদিকে, রেনাটা পিএলসির স্ট্র্যাটেজিক প্রোডাক্ট ডেভেলপমেন্ট বিভাগের কুদসিয়া কাউসার শাহবাজ শেখ দেশে এপিআই উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে সরকারি প্রণোদনার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। তিনি শিক্ষার্থীদের সফট স্কিল উন্নয়নের পাশাপাশি গবেষণার ফলাফল ও অবদানের ক্ষেত্রে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের ব্যবধান কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য প্রফেসর ড. মো. আসলাম হোসেন। তিনি ফার্মাসিস্টদের রোগীদের প্রয়োজন ও কল্যাণকে আরও বেশি গুরুত্ব দিয়ে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবসের আয়োজন শেষ হয়।

