স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, 'কানাডা বানাবো, অস্ট্রেলিয়া বানাবো কিংবা সিঙ্গাপুর বানাবো—আমরা তা বলব না। তবে বাসযোগ্য একটি ঢাকা গড়তে চাই।'
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) ৭৪ ও ৭৫ নম্বর ওয়ার্ডের আওতাধীন নন্দীপাড়া এলাকার জিরানী খাল পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মীর শাহে আলম বলেন, 'মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চান বাসযোগ্য একটি ঢাকা। যে ঢাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা থাকবে, জলাবদ্ধতা থাকবে না, খালগুলো পরিষ্কার থাকবে, মানুষের হাঁটার জায়গা থাকবে।'
তিনি বলেন, 'ঢাকার ২৯টি ও ২৬টি খাল পরিষ্কার ও সচল করার পাশাপাশি খালের পাশে রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণ, বৃক্ষরোপণ এবং মানুষের হাঁটার ব্যবস্থা করা হবে। একই সঙ্গে ঢাকার চারপাশের পাঁচটি নদীকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে এনে নদীপথে নৌযান চলাচলের উপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।'
চারটি খালের কাজ পরিদর্শনের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কাজের অগ্রগতি দেখতে এবং সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতেই এ পরিদর্শন। শুষ্ক মৌসুমের মধ্যেই খালগুলোর কাজ উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে শেষ করে এগুলো জলাবদ্ধতা নিরসন ও মানুষের ব্যবহারের উপযোগী করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
খালের ওপর থাকা বাঁশের সেতু প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'অল্পদিনের মধ্যেই সেটি আরসিসি সেতুতে রূপান্তর করা হবে। তবে অবৈধভাবে নির্মিত সেতু আরসিসি করা হবে না। যারা খাল দখল করে বাড়িঘর নির্মাণ করেছেন, এ বছর তাদের দখল উচ্ছেদ করা হবে।'
খাল পুনরুদ্ধার প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে মীর শাহে আলম বলেন, 'আগের সরকারের সময়ে খাল পুনরুদ্ধারের জন্য যে কমিটি করা হয়েছিল, তার কার্যক্রমে কোনো অগ্রগতি হয়নি। অগ্রগতি ছিল শূন্য শতাংশ। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর উত্তর ও দক্ষিণ সিটি এলাকায় নতুন করে দুটি কমিটি করা হয়েছে।
তিনি বলেন, 'সরকারি সম্পত্তি উদ্ধারের জন্য বিভিন্ন জায়গা লাল পতাকা দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রশাসন ও স্থানীয় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সরকারি সম্পত্তি উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে খাল পুনরুদ্ধার কার্যক্রমের অগ্রগতি ১৭ থেকে ১৮ শতাংশ হয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে জোরেশোরে কাজ করে তা আরও এগিয়ে নেওয়া হবে।'
ভবিষ্যতে খাল আবার দখল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'সিটি কর্পোরেশন সারা বছর খালগুলো তদারকি ও পরিষ্কার করবে। জনগণের কল্যাণে প্রয়োজনীয় সব কাজ করা হবে।'
ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচিতে নগরবাসীর সহযোগিতা চেয়ে তিনি বলেন, 'শুধু সরকারের একার পক্ষে পরিচ্ছন্ন নগরী গড়ে তোলা সম্ভব নয়। সবার সহযোগিতা নিয়ে এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে হবে।'
তিনি আরও বলেন, 'ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকরা মানুষের ভোট পাবেন কি না, সেটি বিবেচনা না করে মানুষের স্বার্থে ফুটপাত দখলমুক্ত করতে দিনরাত কাজ করছেন।'
সরকারের কার্যক্রম প্রসঙ্গে মীর শাহে আলম বলেন, 'জনগণই সরকারকে দায়িত্ব দিয়েছে। কোথাও সরকারের ব্যর্থতা থাকলে জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা চাওয়া হবে।' বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সমস্যাও মোটামুটি সমাধানের দিকে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি সরকারকে আরও কিছু সময় দেওয়ার আহ্বান জানান।
পরিদর্শনকালে আরও উপস্থিত ছিলেন রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. এ কে এম শাহাবুদ্দিন।
এ ছাড়া বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
While most comments will be posted if they are on-topic and not abusive, moderation decisions are subjective. Published comments are readers’ own views and The Business Standard does not endorse any of the readers’ comments.

