সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হামলা; দুই বাংলাদেশিসহ নিহত ১২, আহত ৩০৯

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক হামলায় দুই বাংলাদেশিসহ অন্তত ১২ জন নিহত ও ৩০৯ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ।

রোববার ভোরে এক বিবৃতিতে জেনারেল অথরিটি অভ সিভিল এভিয়েশন (জিএসসিএ) জানিয়েছে, শনিবার গভীর রাতের ওই হামলায় চারজন সৌদি, দুজন বাংলাদেশি, একজন মার্কিন, একজন মিশরীয়, একজন জর্ডানি, একজন সিরীয়, একজন ফিলিস্তিনি ও একজন সুদানি নাগরিক নিহত হয়েছেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাদের সবাইকে হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।

হামলায় সম্পত্তিরও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, যার পরিমাণ এখনও নিরূপণ করা হচ্ছে।

এর আগে দেওয়া এক বিবৃতিতে জিএসিএ জানিয়েছিল, হামলার পর বিমানবন্দরে কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হছে। কর্মকর্তারা ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ ও আহতদের সঠিক সংখ্যা নির্ধারণের কাজ করছেন বলেও জানানো হয় তখন।

ইয়েমেনে যুদ্ধরত সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট যাত্রীবাহী টার্মিনালে এই হামলার জন্য হুথিদের দায়ী করেছে। তারা একে 'পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধাপরাধ' বলে আখ্যা দিয়েছে। জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালকি বলেন, 'আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী এই সন্ত্রাসী হামলার চূড়ান্ত জবাব দেওয়া হবে।'

আল-মালকি একটি পৃথক ঘটনারও সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, 'দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আশেপাশে একটি প্রজেক্টাইল আঘাত হেনেছে।'

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, সৌদি আরবের ওপর হুথিদের হামলার 'তীব্র নিন্দা' জানায় ওয়াশিংটন। এর মধ্যে শনিবার কিং খালিদ বিমানবন্দরে চালানো হামলাটিও রয়েছে। যদিও হুথিরা এখনও এর দায় স্বীকার করেনি।

শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে রুবিও বলেন, 'এই নিন্দনীয় হামলাগুলো নিরীহ বেসামরিক মানুষের জীবনের প্রতি চরম অবজ্ঞারই প্রমাণ দেয়। এগুলো এখনই বন্ধ হওয়া উচিত।'

জিএসিএর তথ্যমতে, গত বৃহস্পতিবার কিং খালিদ বিমানবন্দরে হুথিদের হামলায় একজন পাইলটসহ অন্তত তিনজন সৌদি নাগরিক নিহত হয়েছিলেন।

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা রিয়াদ ও এডেনে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত আছে।

শনিবার ইয়েমেন থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক ইউসেফ মাউরি জানিয়েছেন, হুথিরা এখনও এই সর্বশেষ হামলার দায় স্বীকার করেনি।

তবে ইরান-সমর্থিত এই গোষ্ঠীটি বিমান পরিবহন সংস্থাগুলোকে সৌদি আরবের আকাশসীমা এড়িয়ে চলার জন্য সতর্ক করেছে। তারা জানিয়েছে, পবিত্র শহর মক্কা ও মদিনা ছাড়া সৌদির আকাশসীমায় চলাচলকারী যেকোনো বিমানই তাদের লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।

সর্বশেষ এই হামলার খবরের পর হোয়াইট হাউসের বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সাংবাদিকরা জানতে চান, হুথিদের ওপর সৌদি আরবের হামলায় ওয়াশিংটন অংশ নেওয়ার কোনো পরিকল্পনা করছে কি না।

জবাবে তিনি বলেন, 'আমরা করতেও পারি। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখব। এইমাত্র সাম্প্রতিক হামলাটির কথা জানতে পেরেছি, তাই আমরা দ্রুতই সিদ্ধান্ত নেব। আমরা খুব দ্রুত পদক্ষেপ নিই।'

এদিকে রিয়াদে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, আয়ারল্যান্ড ও কানাডাসহ বিভিন্ন দেশের দূতাবাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সৌদি আরবে অবস্থানরত নিজেদের নাগরিকদের জন্য সতর্কবার্তা জারি করেছে।

While most comments will be posted if they are on-topic and not abusive, moderation decisions are subjective. Published comments are readers’ own views and The Business Standard does not endorse any of the readers’ comments.

আন্তর্জাতিক