নতুন একটি চুক্তির আওতায় বাংলাদেশে প্রথম দফায় এলএইচবি ধরনের যাত্রীবাহী কোচ রপ্তানি করেছে ভারত। মঙ্গলবার ভারতীয় কোম্পানি রাইটস লিমিটেড জানিয়েছে, বাংলাদেশ রেলওয়েকে মোট ২০০টি কোচ সরবরাহের চুক্তির অংশ হিসেবে তারা প্রথম দফায় ১৮টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচ পাঠিয়েছে।
কোচগুলো সাতটি ভিন্ন ধরনে তৈরি করা হচ্ছে। ভারতের পাঞ্জাবের কাপুরথালায় অবস্থিত রেল কোচ কারখানায় এগুলো নির্মাণ করা হচ্ছে।
কোম্পানিটি জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ১২ অক্টোবর পাঠানো প্রথম চালানে মোট ১৮টি কোচ রয়েছে। এর মধ্যে ১১টি শীতাতপনিয়ন্ত্রণবিহীন শোভন চেয়ার কার, তিনটি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত চেয়ার কার, দুটি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত স্লিপার কোচ এবং দুটি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত পাওয়ার কার রয়েছে।
কোম্পানিটি আরও জানিয়েছে, পাওয়ার কারগুলোতে গার্ডের জন্য আলাদা কক্ষ এবং মালপত্র রাখার জায়গা রয়েছে।
রাইটস আরও জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত তাদের সরবরাহ করা রেল ইঞ্জিনের সংখ্যা ২৮০টির বেশি। এ ছাড়া তারা ১ হাজার ৮৫টির বেশি কোচ এবং ডিজেলচালিত একাধিক ইউনিটের ট্রেনসেট সরবরাহ করেছে।
নবরত্ন মর্যাদাপ্রাপ্ত এই রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানটি এশিয়া, আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা, দক্ষিণ আমেরিকা ও পশ্চিম এশিয়ার ৫৫টির বেশি দেশে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে।
রেল মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ভারতের রেল কোচ কারখানা এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের মধ্যে সহযোগিতা শুরু হয় ২০১৫-১৬ অর্থবছরে। ওই সময় ভারতের কারখানাটি সফলভাবে বাংলাদেশকে ১২০টি এলএইচবি ধরনের ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচ সরবরাহ করে।
আগের এই সহযোগিতার ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ রেলওয়ে ২০২৪ সালে রাইটসের মাধ্যমে নতুন একটি আদেশ দেয়। এতে ২০০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচ তৈরি ও সরবরাহের কথা বলা হয়।
এই আদেশের আওতায় সাত ধরনের কোচ সরবরাহ করা হবে। এর মধ্য দিয়ে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা আরও গভীর হবে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের পরিচালনাগত চাহিদা বিবেচনায় কোচগুলো বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে। একই সঙ্গে যাত্রীদের ভ্রমণ আরও আরামদায়ক করার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।
রেল মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কোচগুলোতে নকশার বেশ কিছু উন্নয়ন ও পরিবর্তন আনা হয়েছে। এসব পরিবর্তন বিশেষভাবে এলএইচবি কোচের জন্য তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে এমন কিছু বৈশিষ্ট্যও রয়েছে, যা এ ধরনের কোচে প্রথমবারের মতো যুক্ত করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এসব বৈশিষ্ট্যের মধ্যে রয়েছে বিশেষভাবে নকশা করা হেলান দিয়ে বসার উপযোগী আসন। আসনগুলোতে স্টেইনলেস স্টিলের হাতল ও পা রাখার জায়গা রয়েছে। এই আসনব্যবস্থার ফলে যাত্রীরা নিজেদের সুবিধামতো বিভিন্ন কোণে আসন হেলিয়ে বসতে পারবেন।
যাত্রীদের সুবিধার জন্য আরও বেশ কিছু ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কোচে পাখা, সমন্বিত সিসিটিভি নজরদারি ব্যবস্থা, যাত্রীদের জন্য জরুরি সংকেত দেওয়ার ব্যবস্থা এবং আংশিক খোলা যায় এমন জানালা।
এ ছাড়া কোচগুলোতে শিশুর যত্ন নেওয়ার জন্য আলাদা কক্ষ এবং প্রার্থনার জন্য একটি কক্ষ রাখা হয়েছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের পরিচালনাগত পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কোচগুলোতে আরও কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ সামলাতে কোচগুলোর ছাদ কাঠামোগতভাবে আরও মজবুত করা হয়েছে। যাত্রী চলাচল বেশি থাকার সময় কোচের ছাদের ওপর মানুষ উঠে ভ্রমণ করলেও যাতে ছাদ অতিরিক্ত ওজন বহন করতে পারে, সে বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
কোচগুলোর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য হলো সংঘর্ষের সময় যাত্রীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার উপযোগী নকশা। এটি ইউরোপীয় মানদণ্ড ইএন ১৫২২৭ অনুসরণ করে তৈরি করা হয়েছে।
নির্ধারিত নিরাপত্তার মান পূরণ করতে কোচের বাইরের মূল কাঠামোর নকশায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর ফলে সংঘর্ষের সময় কোচগুলো ধাক্কা সহ্য করার বেশি সক্ষমতা পাবে। পাশাপাশি যাত্রীদের আরও ভালো সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হবে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের চাহিদা অনুযায়ী কোচগুলোর বিদ্যুৎ ব্যবস্থাতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। ভারতীয় রেলওয়ের প্রচলিত কোচগুলোতে ৭৫০ ভোল্টের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়। তবে বাংলাদেশের জন্য তৈরি এসব কোচ ৪১৫ ভোল্টের বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় চলার উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে।
While most comments will be posted if they are on-topic and not abusive, moderation decisions are subjective. Published comments are readers’ own views and The Business Standard does not endorse any of the readers’ comments.

