আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে আয়োজিত 'কনফারেন্স অন ইন্টার্যাকশন অ্যান্ড কনফিডেন্স বিল্ডিং মেজার্স ইন এশিয়া (সিকা)' সপ্তম শীর্ষ সম্মেলনে ইসরায়েলি প্রেসিডেন্টের বক্তব্য চলাকালে তাৎক্ষণিকভাবে অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ (ওয়াকআউট) করেছে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। ইসরায়েলি প্রেসিডেন্টের বক্তব্য শুরু হওয়ার পরপরই তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল এই ওয়াকআউট করে। একই সময় বাংলাদেশের পাশাপাশি আরও একাধিক দেশের প্রতিনিধিরাও ইসরায়েলি প্রেসিডেন্টের বক্তব্য বয়কট করে সম্মেলন কক্ষ থেকে বের হয়ে যান।
এর আগে সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এশীয় দেশগুলোর মধ্যে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারে বাংলাদেশের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে তিনি সিআইসিএ-কে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ফলাফলমুখী সংস্থায় রূপান্তরের আহ্বান জানান।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সিআইসিএ-কে স্পষ্ট আইনি ভিত্তি, শক্তিশালী সচিবালয়, নির্ভরযোগ্য অর্থায়ন এবং কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াসহ একটি পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সংস্থায় রূপান্তরের প্রস্তাবকে বাংলাদেশের পূর্ণ সমর্থনের কথা নিশ্চিত করেন।
নিজের বক্তব্যে তিনি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে কার্যকর অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে তিনটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন:
১. সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে অর্থবহ অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে সুনির্দিষ্ট তদারকি বা ফলো-আপ প্রক্রিয়াসহ ফলাফলমুখী খাতভিত্তিক প্রকল্প বাস্তবায়ন।
২. অংশীদারদের ব্যাপক অংশগ্রহণ নিশ্চিতে সরাসরি বা সশরীরে উপস্থিতি রয়েছে এমন সম্মেলনের সংখ্যা বাড়ানো।
৩. আইসিটি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-র নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সদস্য দেশগুলোর তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং একটি নিরাপদ, উন্মুক্ত ও বিশ্বাসযোগ্য ডিজিটাল স্পেস গঠনে আস্থা বৃদ্ধিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ।
এ বছর সিকা'র সপ্তম শীর্ষ সম্মেলনটি আজারবাইজানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল—'এ গ্রোথ ইন এশিয়া: কানেক্টিভিটি, ডিজিটালাইজেশন অ্যান্ড সাসটেইনেবল গ্রোথ ইন এশিয়া'।
১৯৯৯ সালে সমগ্র এশিয়াজুড়ে শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা জোরদারের লক্ষ্যে গঠিত এই ফোরামে চলতি সম্মেলনে ২৯তম সদস্য হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিয়েছে লাও পিডিআর। এছাড়া, এই সম্মেলনে ২০২৬–২৮ মেয়াদের জন্য আজারবাইজানকে সভাপতি ঘোষণা করা হয় এবং এইচ. ই. সুলতান হাজিয়েভ-কে সিআইসিএ-এর পরবর্তী মহাসচিব হিসেবে নিয়োগ করা হয়।
While most comments will be posted if they are on-topic and not abusive, moderation decisions are subjective. Published comments are readers’ own views and The Business Standard does not endorse any of the readers’ comments.

